ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

ইচরে পাঁকা বলে এক ধরনের চরিত্র আছে। অল্প বয়সে কারো মধ্যে অতি চঞ্চলতা আর প্রাপ্ত বয়স্ক সুলভ আচড়ণ দেখা দিলে সাধারণত তাকে ইচরে পাঁকা বলা হয়। মানসিক দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীলতা সৃষ্টি হওয়ার আগেই এরা নিজেদেরকে সব কাজের উপযুক্ত বলে মনে করে এবং বড় বড় কথা বলে থাকে। কাজের চেয়ে প্রগলভতাই এদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়। ওরা তাক লাগানোর মত হুটহাট দু একটা কাজ করে বটে কিন্তু তা মোটেই স্বাভাবিক নয়। মেকি।

বাংলাদেশ দলের আজকের খেলা দেখে আমার সেই ইচরে পাঁকাদের কথাই মনে পড়ে গেল। মনে হলো, দায়িত্বশীলতা আর ধৈর্য কী জিনিস তা সাকিব-তামিমদের জানা নেই। ব্যাট হাতে পিচে দাঁড়ানোটাই যেন তাদের সেরা অর্জন। এতেই যেন তারা সব গুণ অর্জন করে ফেলেছে! এতেই তারা গর্বিত, এতেই তাদের ফূর্তি। কিভাবে রান নিতে হয়, রান নেবার জন্য দৌড়ের গতি কেমন হতে হয়, সহ ব্যাটসম্যানের সাথে কিরকম বোঝাপরা থাকতে হয় তা যেন এরা এখনো শিখতেই পারেনি। আজকে সাকিবের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে রান নিচ্ছিল তাতে মনে হচ্ছিল এর নাম রান নয়, ওয়াক মানে হাটা। হেটে হেটে রান নেয় এমন খেলোয়ার খুব কমই আছে। আর এই অযোগ্যতার খেসারত তাদের দিতে হয়েছে হাস্যকরভাবে রান আউট হওয়ার মধ্যে দিয়ে। ভাষ্যকাররা যেটাকে বলছিলেন, অপ্রয়োজনীয় রানের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত। আর ক্যাপ্তান সাকিবকে দেখে তো মনেই হচ্ছিল, উট পাখির মত সে বালুতে মুখ লুকিয়ে আছে। কেউ যেন তাকে দেখতে পাচ্ছে না। অদ্ভুত। সাকিবদের খেলা দেখা মানেই মানসিক অশান্তিতে ভোগা। আস্থা রাখাই কষ্টকর হয়ে পরে। বারবার মস্তিস্কে ঘুরপাক খেতে থাকে, এই বুঝি গেল। ধারাভাষ্যকাররাও তাই বলছিল, গ্যালারির দর্শকদের মধ্যে সুস্পষ্ট অস্বস্তি। তারা কেউই জানেনা, কেমন খেলবে তাদের দল।

তাই আমার মনে হয়, আমাদের জাতীয় দলের এই সব ইচরে পাকা খেলোয়ারদের জন্য এই মুহূর্তে যা দরকার তা হলো, মানসিক দৃঢ়তা আর দায়িত্বশীলতা সৃষ্টির জন্য ৬ মাসের একটি কোর্স করানো। সেই কোর্সে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবে আয়ারল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। কারণ এই বিশ্বকাপে এই দুটি দেশই সবচেয়ে বড় চমক। ক্রিকেট বোর্ডের উচিত বিষয়টা গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখা।

**আজকে সফিউল ও মাহমুদুল্লাহর মত শেষ কাতারের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে দেশের মান বাঁচালো তাতে আগামীতে তাদেরকে ওপেনিং জুটি করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখা উচিত। অভিনন্দন সফিউল ও মাহমুদুল্লাহ।