ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক ও জোট আমলের জ্বালানী উপদেষ্টা আদালত অবমাননার দায়ে জেল খেটে আজ মুক্তি পেয়েছেন। সংবাদ পরিবেশনের দায়ে কাউকে জেলে ভরতে হবে তা আমি মনে করিনা, তা সে যে দলেরই সমর্থক হোক না কেন। আমাদের বিচারালয়ের বিচারপতি-বিচারকরা সংবাদ কর্মীদেরকে জেলে পুরে নিজেদের নিজেদের পাপকে আড়াল করতে চান, কোর্টে ডেকে নিয়ে ধমক দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চান। মাহমুদুর রহমানের বিষয়টি অনেকাংশেই এই প্রবণতা থেকে হয়েছে বলেই আমি মনে করি।

কিন্তু মাহমুদুর রহমান জেল থেকে মুক্তি পেলেও অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে আমি মনে করি না। তত্ববধায়ক সরকারের সময় উত্তরায় বসে তিনি রাষ্ট্রবিরোধী যে তৎপরতায় তিনি নিয়োজিত হয়েছিলেন তার দায় থেকে তিনি মোটেও মুক্ত হননি। ঐ রাতে তিনি কেন এতজন সরকারী কর্মকর্তাকে নিয়ে একত্রিত হয়েছিলেন, এই একত্রিত হবার পেছনে আর কে কে জড়িত ছিল তা অবশ্যই খুঁজে দেখার সুযোগ রয়েছে। তাদের এই একত্রিত হবার ফলে রাষ্ট্রের বড় ধরণের কোন ক্ষতি হতে পারতো কিনা তাও অনুসন্ধান করে বের করা জরুরী। আমি মঈন উ আহমেদের নেতৃত্বাধীন বিগত তত্ববধায়ক সরকারের বিরোধী। কিন্তু সেই রাতে মাহমুদুর রহমান আসলেই কী করতে চেয়েছিলেন তাও জানতে আগ্রহী। তাই বর্তমান সরকারকে অবশ্যই ঐ গোপন তৎপরতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে বলে মনে করি। তা না হলে ভবিষ্যতেও এই সব লোকদের প্রেতাত্মারা অর্থাৎ উত্তরসূরিরা আবারো একই ধরণের কাজে লিপ্ত হতে পারে। যা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক হতে পারে।

সুতরাং মাহমুদুর রহমানকে বলতে হবে তিনি কী করতে চেয়েছিলেন। তাকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত নন। কিংবা প্রশাসনে অনৈতিক কোন ঘটনা ঘটাবার পেছনে তার কোন হাত ছিলনা। আর তিনি যদি নাও বলেন, সরকারকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তদন্ত চালাতে হবে। প্রয়োজনে মাহমুদুর রহমানকে আবারো গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কারণ উত্তরার ঘটনা যখন তিনি ঘটিয়েছিলেন, তিনি তখন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না। তিনি তখন একজন রাজনীতি সম্পৃক্ত ব্যক্তি এবং সাবেক প্রশাসক। তাই এই ঘটনাকে কোনভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

———————————————————————————————-
ফিচার ছবিঃ শরীফ আলী ‘র ব্লগ থেকে সংগৃহিত