ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আজ একটি অনুষ্ঠানে যা বললেন, তা কাউকেই অবাক করেনি বটে তবে হাসিয়েছে অনেককে। এজন্যই অবাক করেনি কারণ প্রায়শই তার মুখ থেকে কিছু কিছু অদ্ভুত কথা শোনা যায়। জনাব কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই, সরকারের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীও এরকম কথা বলে থাকেন। এটা হয়তো তাদের পরিবারেরই ধারা। দুই ভাইয়ের হাস্যকর কথার একটি নমুনা এমন:

কোন এক অনুষ্ঠানে বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী কথা প্রসঙ্গে বললেন, আমার ভাই কাদের সিদ্দিকী, ওতো একটা পাগল। আবার কাদের সিদ্দিকী আরেকটি অনুষ্ঠানে এর জবাব দিতে গিয়ে বললেন, আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী, সে আবার মুক্তিযুদ্ধ করলো কবে?

আজকে যে অনুষ্ঠানে কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত হয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠনের পরিচয় নিয়েও যেমন প্রশ্ন আছে তেমনি তার সাথে উপস্থিত আরেক জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে। ওয়ান এলিভেনের পর ক্ষমতার ভাগ পেতে এই সাবেক সৈনিক যে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছিলেন তা সবারই জানা।

কাদের সিদ্দিকী জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এটা নিয়ে আপাতত কোন মন্তব্য আমি করবো না। কিন্তু তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা শুধুমাত্র স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকেরাই করে থাকে। বলা যায় কথাটি এই শ্রেণীর লোকের ব্র্যান্ড মন্তব্য। ‘স্বাধীনতার এত বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে দেশকে বিভক্ত করা যাবে না।’ দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির চক্রের এই ব্র্যান্ড কথাটিই জনাব সিদ্দিকী আজ বলেছেন। এর কারণ কী? মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক বাঘা সিদ্দিকী কেন আজ স্ববিরোধী কথা বললেন! কারণ একটাই। বেশ কয়েকদিন যাবৎ শোনা যাচ্ছে, সামনের নির্বাচনকে মাথায় রেখে তিনি কোন এক সুবিধাজনক সময়ে চারদলীয় জোটে যোগ দেবেন। নিজেও নির্বাচন করবেন, এবং তার আরেক ভাই মুরাদ সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইলের কোন একটি আসন থেকে মনোনয়ন পাইয়ে দেবেন। এই শোনা কথারও যে একটি সত্যতা আছে আজকের বক্তব্য দিয়েই তার প্রমাণ পাওয়া গেল।

কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি, যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আল বদর তথা জামাত-শিবির চক্রের বিচার করলে দেশ বিভক্ত হবে কেন? এই ইস্যুতে দেশ তো বিভক্ত হয়েই আছে। এই বিভক্তি তো সূচিত হয়েছে সেই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকেই। একটি পক্ষ চেয়েছে নিজের জীবনের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন ও শত্রু মুক্ত করতে আর আরেকটি পক্ষ চেয়েছে ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশকে পাকিস্তানের হাতে বন্দী করে রাখতে। তাহলে সেই বিরোধী অপশক্তির বিচার যদি করাই হয় তবে জাতি নতুন করে কেন বিভক্ত হবে। এই বিচার তো তাদের প্রাপ্য। দেশের অধিকাংশ মানুষই এই বিচার দেখতে চায়। আজকে তার এমন বক্তব্যের ফলে একথা বলতে আর কোন দ্বিধা নেই যে, বঙ্গবীর তার সত্য আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। তার এই বিচ্যুতি তার বীরত্ব ও আদর্শের মৃত্যুর সমতুল্য। তাই বঙ্গবীর আজ মৃত। কাদের সিদ্দিকী সেই বীরের ঘাতক। ব্যক্তি কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে আজ আদর্শবাদী বঙ্গবীরের মুত্যু হয়েছে। এ এক লজ্জা।