ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

১। চায়নার আছে লম্বা ইতিহাস, হাজার বছর ধরে তারা কখনো অন্য বা বাহিরের দেশ দ্বারা তেমনভাবে পরাধীন ছিল না, আমাদের দেশের মতো।
ফলে তারা নিজেদের মতো করে শাসন ব্যবস্থা বা সরকার গড়ে তুলেছে যা আবার সময়ের সাথে সাথে বারংবার পরিবর্তনও করেছে। সত্যি বললে হয়তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না যে, চায়নার গনতন্ত্র আছে।

২। চায়নিজদের নেই কোন ধর্ম (আংশিক সত্য)। অনেক চায়নিজ কে বলতে শুনেছি আমার কোন ধর্মের অনুসারী না, আমরা স্বাধীন!

৩। গত ১০০ বছরে চায়নার উন্নয়ন ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, চায়নাতে মুলত শহর এলাকা সমুহের উন্নতি হয়েছে, সেই তুলনায় গ্রামগুলি চির অবহেলিত থেকে গেছে। আজোও অনেক চায়নীজ গ্রাম গুলিকে “শহরের টয়লেট” বলে অপমান করে!

৪। চায়নার আছে বিশাল জনসংখ্যা, গত কয়েক দশক ধরে চায়নাতে একটির বেশি ২টি সন্তান নেয়া নিষিদ্ধ। এই আইন আমান্য কারীদের ভয়ংকর শাস্তি দেয়া হয়। ফলে চায়নীজরা এখন শুধু পায় বাবা-মাকে, তাদের না আছে চাচা ফুফু বা খালা খালু। এমনকি নেই তাদের কাজিন (চাচাত মামাত খালাত ভাই)। ফলে সংসারের আজকের সন্তানটি জানে সে সংসারের সকল কিছুর মালিক। ফলে চায়নীজদের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা ভয়ংকর বেশি। অনেক চাইনিজ অন্যের সাথে সুখ দুখ হাসি কান্না শেয়ার করতেও পারে না।

৫। চায়না কি একটি দেশ? শুনতে অবাক লাগলেও ওরা এতটাই ….যে, চায়নার বড় বড় এক শহর থেকে অন্য শহরে (প্রদেশে) যেতে হলে রীতিমত ভিসা নিতে হয়।

৬। যতদুর মনে পরে ১৯৯৭ সালে হংকং দখল করে চায়না বলে যে এটি তাদের! যাইহোক এখনো হংকং আর চায়নার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নীতি (ভিন্ন আইন কানুন) তৈরি করেছে, এ বিষয়ে চেপে ধরে প্রশ্ন করলে আমতা আমতা করে!

৭। চায়না এখন অনেক প্রভাবশালী দেশ। বিশ্বের নানা কিছু উত্পাদন বা তৈরির জায়গা হলো চায়না। ফলে তারা পরোক্ষ ভাবে এই উত্পাদন দিয়ে নানা কোম্ম্পানী বা দেশ কে এখন নিয়ন্ত্রন করতে পারে।

৮। চায়নিজরা ছড়িয়ে পরেছে সারা দুনিয়ায়। বোকা ভোকা চেহেরার আলাভোলা অভিনয় করে তারা কিন্তু বড় বড় প্রায় সব মাল্টি ন্যাশনাল বা কর্পোরেট দুনিয়ার নানা গুরুত্বপুর্ন পদে বসে আছে, একযোগে হরতাল ডাকলে কি যে হবে কল্পনাতেও শিউরে উঠি।

৯। ভারত , আমেরিকা ও চায়নার গত ৪০ বছরের উন্নয়ন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সামনের ৪০ বছর পর মানে
২০৫০ সালে ভারত ও আমেরিকার অর্থনীতি সমান সমান হয়ে যাবে, এর চেয়ে মারাত্মক কথা হলো, ভারত ও আমেরিকার মিলিত অর্থনীতির সমান হবে চায়নার অর্থনীতি। স হ জ কথায় ভারত ও আমেরিকার দ্বিগুন সম্পদের মালিক হবে চায়না। (পরিসংখ্যান ভুলও হতে পারে!)

১০। চায়নার বেশির ভাগ সম্পদ অল্প কিছু লোকের কাছে আছে, মানে হলো অল্প কিছু লোক বাংলাদেশের রাজনীতিব্যবসায়ীর মতো অতি মাত্রায় ধনী, আর বিশাল জনগোষ্ঠী আজও গরীব। চায়নার শ হর ছেড়ে দুরের গ্রামে যারা গেছেন তারা জানেন সেখানকার অবস্থা বাংলাদেশের থেকেও খারাপ!
যে দেশ মানব কল্যান কে পদদলিত করে টাকার পিছনে ছুটে, কৌশলে, দুনিয়ায় টাকার গরমে রাজত্ব করতে চায় , যারা শুধুই নিজ কেন্দ্রিক, যেখানে মানবতার দাম নেই,,,,তাদের পছন্দ করি কিভাবে?
পরিশেষে একটি কথাই মনে করিয়ে দেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের কেন বিরোধীতা চায়না করেছিলো, বা কি উদ্দেশ্যে চায়না পাকিস্থানকে সমর্থন করেছিলো একটু খোজ নিন, থলের বিড়াল বা চায়নার আসল রূপ বুঝতে আর বাকী থাকবে না!
ধন্যবাদ।
(লেখাটি সম্পূর্ন আমার নিজস্ব মতামত- অন্য ব্লগেও প্রকাশিত)