ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

প্রথমেই বলে রাখি এই লেখাটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত ।

বাংলাদেশের মানুষ নাকী হুজুগে মাতে আর নিজের সামনে পিছনেও দেখে না, গুজব শুনেই লাফায়।

গুজব ১: বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুস্ঠান এর দায়িত্ব পেয়েছে এটিএন বাংলা সুতরাং গান পরিবেশন করবে শুধু ইভা রহমান।
বাস্তব হলো: পুরোটাই মিথ্যা এবং ইভা রহমান উদ্বোধনী অনুস্ঠানে কোন গান গায়নি!

গুজব ২: উদ্বোধনী অনুস্ঠান এর পুরোটা জুড়ে থাকবে শুধু ভারত, শিলা-মুন্নি সহ বলিউদের ১০০ জন নায়ক নায়িকা দিয়েই মুল অনুস্ঠান হবে। শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের জন্য ১০% সময় শুধু বরাদ্দ থাকবে।
বাস্তব হলো: পুরোটাই মিথ্যা এবং বাংলাদেশকে নিয়েই মুলত মুল অনুস্ঠান হয়েছে !

গুজব ৩: সব দলের অধিনায়ক কে রিক্সা চালিয়ে উদ্বোধনী অনুস্ঠান অংশ নিতে হবে। যা দেখতে লাগবে কদাকার জঘন্য
বাস্তব হলো: রিক্সা চালিয়ে উদ্বোধনী অনুস্ঠান অংশ নিলেও তা হয়েছে খুব সুন্দর ভাবে এবং ভাল লেগেছে দেখতে।

গুজব ৪: উদ্বোধনী অনুস্ঠান এর পুরোটা জুড়ে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি থাকবে।
বাস্তব হলো: অশ্লীলতা নয় বরং তুলনামুলক বেশ ভাল একটি অনুস্ঠান হয়েছে।

গুজব ৫: উদ্বোধনী অনুস্ঠান এর সময় একদল ঘোষনা দেয় তারা ফেলানীর ছবি নিয়ে মোড়ে মোড়ে বিখ্খোব করবে যাতে বিশ্ববাসী এ সমস্যার কথা জানতে পারে, আরেক দল বলে ফেলানীর ছবি নিয়ে কাউকে রাস্তায় দাড়াতে দিবে না।

বাস্তব হলো: উদ্বোধনী অনুস্ঠানে ফেলানীর ছবি নিয়ে খারাপ কিছু হয়নি!

তবে কিছু কিছু ভুল থেকেই গেছে যা সবার কাছেই মনে হয় খারাপ লেগেছে, যেমন,

১। শেখ হাসিনা ভুল করে ২০১১ এর জায়গাতে ২০০১ বলেছিলেন, তবে মানুষ হিসেবে এটা আমার কাছে বিশাল কোন ভুল মনে হয়নি!
২। রাজনীতিক নেতাদের ভাষন ভাল লাগেনি।
৩। রুনা লায়লার উর্দু গান। অসহ্য লেগেছে, মনে হয় বলি, রুলা লায়না আপনি সেখানে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে গিয়েছেন, পাকিপ্রেম এত বেশি হলে পাকিস্থানের পাসপোর্ট নিয়ে ওখানে চলে যান। দয়া করে বাংলাকে অপমান করবেন না।

কাছাকাছি ২টি ঘটনা:

এই ছবিটি দেখুন
z
ছবিটি আমার দেশ নিউজপেপার থেকে নেয়া।

ভাল করে দেখলে খেয়াল করবেন মেয়েটির গলায় ক্রস চিহ্ন আছে, মানে মেয়েটি মুসলিম নয়। নিজ নিজ ধর্ম অনুসারে যে কেউ প্রার্থনা করতে পারে। তেমনি সেটিকে বিগ্গাপনেও ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশ শুধু মুসলমানদের দেশ আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য কিছু না! এটা তো ঠিক না। সুতরাং গ্রামীন ফোন এ এড দিয়ে কোন ভুল করেছে বলে আমি মনে করি না।
অথচ এই ছবি নিয়ে জামতি ছাগুরা তিলকে তাল বানায়েছে। তাদের মতে সকল বিগ্গাপন কেও মনে হয় মুসলমানী করে মুসলিম করতে হবে,,,হায়রে আমার দেশ!

এবার শুনুন আরো ভয়াবহ ঘটনা।

মারাত্মক গুজব: বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুস্ঠান এর জন্য নাকি আজান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। এবং আসর মাগরিব এশার নামাজের সময় বায়তুল মোক্কারমের মাইক বন্ধ করে দেয়, ফলে অনেক মুসল্লী নামাজ পরতে পারেনি।

বাস্তব : চতুরতার সাথে মিথ্যে কথা বলা হয়েছে, আসল সত্য হলো আতশবাজী ও অন্যান্য শব্দের কারনে যাতে আজান খারাপভাবে (বিক্র্র্ত) শোনা না যায় , সেই কারনে শুধু স্টেডিয়ামের দিকে মুখ করা মাইক বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে বায়তুল মোক্কারমের অন্য দিকের সকল মাইক চালু ছিলো এবং আযান শোনাও গেছে বলে শুনেছি।

যে সকল পাপী “আযান” কে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় তাদের প্রশ্ন করি একটিও প্রমান দেখাক যেখানে আযান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল তার।

শেষে বলি : গুজবে কান দিবেন না, দেশকে ভালবাসুন, দেখিয়ে দিন আমরাও অনেক ভাল কিছু করতে পারি।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুস্ঠান ছিল বলেই বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা একটি অসাধারন ভিডিও পেয়েছি, যে বা যারা এই ভিডিওটি নির্মান করেছেন তাদের লাল সালাম