ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

২০১৩ সালের গোড়ার কথা। ছয় মাস হলো ময়মনসিংহ থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় এসেছি। এর আগেও ঢাকায় ছিলাম ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। সময়ের ফেরে ঢাকার পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ার মতো। এখন মানুষ বেড়েছে, সাথে বেড়েছে বড় বড় বাড়ি। যে কারো ঢাকায় চলে আসার মতো যানবাহন ব্যবস্থাও বেড়েছে। দশ বছর দেশের বাইরে থাকা যে কেউ ঢাকার চেহারা দেখে চমকে উঠতেই পারে।

মোটামুটি আসা যাওয়ার মাঝে থাকায় এখানে বসত স্থাপন করার আগে বুঝতে পারিনি এখানকার এতসব পরিবর্তন। পরিবর্তন ঘটেছে অনেক ধীরে অথচ প্রচণ্ড প্রখরতায়। আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনগুলো মানুষকে একদিকে যেমন যান্ত্রিক করেছে তেমনই ছারপোকার বংশবৃদ্ধির মতো বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। ধনী আরও ধনী, আর গরীব শুধু গরীবই হয়নি, বরং একই সাথে ধনী মানুষের কাতার ছেড়ে অতিমানবের কাতারে ঠাঁই করে নিয়েছে।

টাকার মূল্য সারাদেশের মতো ঢাকাতেও এখন অনেক কম। ভিক্ষে করে যে খায় তার কাছে এক লাখ টাকা যোগাড় করা খুব বেশি কষ্টকর নয়। যদিও সেই এক লাখ টাকা দিয়ে তেমন কোনো স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটানো অসম্ভব তার কাছে। মানুষের ব্যবহারের পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ার মাতো। বিনয়ী স্বরে কাউকে এই শহরে কথা বলতে দেখলে ভয় পেতে হয়। সাধারণের কথাবার্তাগুলো খুবই কর্কষ;  দাম্ভিকের সুর থাকে সে সব কন্ঠে।

ব্যবহারের এই পরিবর্তনটি খুব সম্ভবত সামাজিক ঠেলাঠেলির কারণে তৈরি হয়েছে।  মানুষের কথাবার্তা বলার ধরনের মাঝেও বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। ঢাকার আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার কমে গিয়ে নতুন এক ধরনের নাটকে ভাষায় কথা বলার চলন শুরু হয়েছে।এটাকে এফএম ভাষাও বলা হয়ে থাকে।

আগের মতোই মৃত্যু এখানে সহজ ব্যপার। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বা টিভি মিডিয়ার কল্যাণে মানুষ সেসব খবর খুব দ্রুত পায়। আগে একটি মৃত্যু মানুষের মনে ঘন্টা পাঁচ স্থায়ী থাকলেও এখন তা মিনিট পাঁচেকের বেশি স্থায়ী হয়না। পরবর্তী খবরে চোখ পড়তেই আগের খবর মুছে যায় মন থেকে।

ইদানিংকালে অবশ্য বিভিন্ন অকল্যাণকর সংবাদ বা অমানবিক কোনো ঘটনা মানুষের অনুভূতিকে বিশেষ নাড়া দিচ্ছে। যদিও তার অধিকাংশ নির্ভর করছে এসব মিডিয়ার প্রকাশ কৌশল নৈপূণ্যের উপর। জিনিসপত্রের দাম সরকারী দলের লোকের কাছে কম হলেও সাধারণ ভোটারের কাছে দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটি বিষযুক্ত ফুলকপির দাম চল্লিশের নিচে পাওয়া কষ্টকর। রিকশা ভাড়া বেড়েছে প্রাত্যহিক জমা বৃদ্ধির অজুহাতে। সিএনজি নামক একখান যানবাহন সবুজ রঙের হলেও যে তাতে চড়ে তার লাল বাতি জ্বলে যায় দু্ই কিলো গেলেই।

রাজপথে গাড়ির জ্যাম অসহ্য হতে হতে এখন বেশ গা সওয়া হয়েছে। মানুষ বুঝতে শিখেছে দিন দিন ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হতে চললেও ঢাকায় থাকা খুবই জরুরি।

মন্তব্য ১ পঠিত