ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে দেশের উন্নয়নের জন্য নিজস্ব নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নেও কাজই হলো রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি ব্যর্থ। এছাড়াও জনগনের কাছে করা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সম্পূর্ন রুপে ব্যস্ত। শুধু তাই নয়, বিগত নির্বাচনে জয়ী হবার খায়েশে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে ছিল তা এখন জনগণের কাছে দৃশ্যমান।

১০ টাকা কেজি চাল, ফ্রি সার, ঘরে ঘরে চাকুরী ইত্যাদি কথার ফুলঝুরি ঝরতো যে আওয়ামী লীগের মুখে, সেই আওয়ামী লীগই পরবর্তীতে তা অস্বীকার করেছে। আওয়ামী লীগের এই কর্দয মিথ্যাচারে জনগন অতিষ্ঠ হলেও এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবীরা নিশ্চুপ রয়েছে এখনও। সুস্পষ্টভাবে বললে বলতে হয় এরা আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, ৭১এর চেতনার ফেরিওয়ালা, এদের একমাত্র কাজ প্রজন্মতর প্রজন্ম ৭১এর চেতনা বিক্রি করা মানে দেশে আওয়ামী লীগের বর্বর শাসন চললেও নির্বাচনে নৌকাতে সিল মারাই হচ্ছে এদের আসল মতলব। দেশের উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে এদের কোন পরিকল্পনা নেই, বরং দেশের উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রকৃত সংজ্ঞাই এরা এখন পরিবর্তনে ব্যস্ত। আর তাই আজকাল তাদের মন্ত্রীদের মুখে শোনা যায় টিপাইমুখে বাধ হলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না ইত্যাদি কথা। অথচ ফারাক্কা বাধের কারণে উত্তরবংগে যে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছে তা নিয়ে চেতনা ধারী ফেরিওয়ালাদের কোন বক্তব্য নেই। বরং ভারত তোষণ নীতির পদলেহনেই এদের চেতনার ভিত্তি প্রোথিত। এরই ধারাবাহিকতাতে এরা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করেছিলো, এখন বলা হচ্ছে এই ধর্মনিরপেক্ষতাই নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। নতুন প্রজন্মকে এই চেতনার বিষবাস্প খাওয়ানোর অপচেষ্টাতে ব্যস্ত আওয়ামী বুদ্ধিজীবি মহল, আর তারই অংশ হিসাবে দেশে ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্য নয় এমন সব কর্মকান্ডে নতুন প্রজন্মদের পরিচয় করিয়ে দেবার কূটকৌশলে লিপ্ত। ইসলামকে এরা সাম্প্রদায়িকতার সমার্থক হিসাবে তুলে ধরার জন্যে এদের রয়েছে নিজস্ব মিডিয়া সেল।

আওয়ামী লীগ ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবার জন্যে এতকাল জাবর কাটলেও এখন শোনা যাচ্ছে, সংবিধানে নাকি রাস্ট্রধর্ম ইসলাম, এবং বিসমিল্লাহ সবই থাকবে। ইংরেজী শব্দ সেক্যুলারিজমের বাংলা প্রতিশব্দ ধর্মনিরপেক্ষ হিসাবে ধরা হলেও প্রকৃতপক্ষে সেক্যুলারিজমের বাংলা প্রতিশব্দ ধর্মনিরপেক্ষ নয়। ধর্মনিরপেক্ষ বলতে বুঝায় কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার জন্যে ধর্মকে বিবেচনা না আনা। যেমন ধরুন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির সময় স্টুডেন্টরা কোন ধর্মের তা বিবেচনা করা হয় না। কিন্তু ইংরেজী সেক্যুলার মানে হচ্ছে especially a system of political or social philosophy that rejects all forms of religious faith and worship এর মানে হলো এটা হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, বিশ্বাস, সংস্কৃতিকে বর্জন করা, একেবারে নাস্তিকবাদের অতি আধুনিক সংজ্ঞা।

আওয়ামী লীগ নাস্তিকবাদের এই মতবাদকে ৭১এর চেতনার মোড়কে ৭২ সালের সংবিধানে সংযোজন করেছিলো শুধু মাত্র এন্টি-ইসলাম বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়। বরং এর ভিতরে এক সুক্ষ্ম রাজনৈতিক পরিকল্পনাও ছিলো, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী মহল এখনও ক্রিয়াশীল। এদের চেনা মুশকিল, কারন ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে জামাতের অবস্থানকে এরা মুখোশ হিসাবে সর্বদা ব্যবহার করেন। এই সব ধূর্ত কুশীলদের সমালোচনা কিংবা বিরুদ্ধাচারণ করলে এদের মিডিয়া গোষ্ঠি তাকে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির তকমা লাগিয়ে ডুগডুগি বাজানো শুরু করে দিবে।

ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট ইত্যাদিকে কানেকটিভিটির নামে পার্শ্ববর্তী দেশকে এক তরফা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, সরকার প্রধানের ভারত সফরে ৫০ দফা যে স্মারক চুক্তির কথা বলা হচ্ছে তার বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি কিংবা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি রাখা হয়নি। কাজেই আজকের সরকার জনগনের কাছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেয়ে তাদের বিদেশী বন্ধুদের কাছে করা প্রতিশ্রুত বাস্তবায়নে মরিয়া। এখানে পিলখানা হত্যাযজ্ঞে সরকারে ব্যর্থতা কিংবা পরোক্ষ সমর্থনে আমাদের সেনাবাহিনীকে শক্তিহীন করা সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা কাদের তা জনগন জানে। একই সাথে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পর সরকার কৌশলে বিডিআর-এর নাম পরিবর্তন করে ভারতীয় বর্ডার বাহিনীর নামের অনুকরনে বাংলাদেশ বর্ডার বাহিনী নামে নতুন নামকরণ করা হয়েছে, যাতে বাববা ভারতীয় বাহিনীর মতন সেকুলার মূল্যবোধে পরিচালিত হয়। এটার বাস্তবায়নের পর নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেখানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নতুন সংজ্ঞায় এনে বাংলাদেশের বর্ডারকে কৌশলে অন্যের নিয়ন্ত্রনে দেওয়া হবে। এখানে উল্লেখ, বিগত তত্ত্বাবধায় সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার সাহেব বলেছিলেন, তারা ঢাকা-দিল্লীর সম্পর্কে এমন এক জায়গায় নিয়ে যাবেন সেখান থেকে ফেরার আর সুযোগ থাকবে না। তারই অংশ হিসাবে, কিছুদিন আগে ভারতীয় প্রবীন নেতা প্রনব মুখার্জি ঢাকা ঘুরে গেলেন, কিন্তু দেশের বিরোধী নেতার সাথে না দেখা করেই, এই সামান্য সৌজন্য বোধেরও আওতায় বাংলাদেশ পড়ে না এখন তাদের কাছে।

উলফাসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যারা স্বাধীনতার জন্যে দীর্ঘদিন ভারতে আন্দোলনরত, ভারতের অখণ্ডতা যাতে হুমকির মধ্যে না পড়ে সেই জন্য দিল্লী চায় ঢাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে। আর এজন্যে বাংলাদেশকে জংগীবাদ রাষ্ট্রের তকমা লাগানোর জন্যে এরা মরিয়া। একাজে নগ্নভাবে আজকের আওয়ামী লীগের সরকার কাজ করছে। ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখার কৌশলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বা কাঠামোকে পরিবর্তনে সরকার অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্ররূপে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে দেশের বিচার বিভাগ, সেনাবাহিনী, ইসি প্রায় সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করা কূটকৌশলে লিপ্ত আওয়ামী লীগ।

বিদ্যুত, গ্যাস, পানি কিংবা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেও সরকার উদাসীন, বরং কিভাবে বিদ্যুত খাত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তার ট্রায়ালে দিচ্ছে বিভিন্ন আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা। টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা নব্য ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানী এয়ার-টেলকে দেওয়া হয়েছে অতি সূক্ষ্মভাবে। দেশের তরুন বা ছাত্র সমাজ যেন এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হতে পারে তার যথাযথ ঔষধ এখন তৈরীঃ ড্রাগ, অপসংস্কৃতির গান-বাজনা, আকাশ সংস্কৃতি ইত্যাদি আধুনিকতার নামে দেশীয় সংস্কৃতির কাঠামো ভেংগে দেওয়া ইত্যাদি, এর উদাহরন স্বরুপ দেখা যাবে নিরপেক্ষতার চাদর গায়ে দিয়ে আওয়ামী সুশীল শিক্ষকের ছাত্রী হলে ড্যান্স। এর নাম আধুনিকতা, এর নাম ৭১এর চিঠি।
ref. http://bd008.wordpress.com/

অর্থ উপদেষ্টার কথায় এখন বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। কারণ ট্রানজিটের জন্য পয়সা আদায় হবে ছোটলোক, অসভ্যের কাজ।

ফারাক্কা চুক্তি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে গোপালগঞ্জবাসীর এই সচিবের কিছু স্মৃতিচারণা নতুন ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। বিবেক জাগলে খোদ গোপালগঞ্জে অবস্থান করেও তা জাগতে পারে। ইন্ডিয়ার অফিসারদের সঙ্গে তর্ক করে যখন শেখ মুজিবের ভৎর্সনার জন্য মনে মনে প্রস্তুত হচ্ছিলেন তখন মুজিবের কণ্ঠে শোনালেন অমিত প্রশ্রয়ের বাণী, আমি তো ইন্ডিয়ার কোনো নুন খাই নাই। কাজেই তুই চালাইয়া যা। অন্যদিকে ওআইসি সম্মেলনে তার যোগদান নিয়ে ইন্ডিয়ার আপত্তির মুখে শেখ মুজিব জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোঅর্ডিনেশন আর সাবর্ডিনেশনের মধ্যে পার্থক্যটি তিনি ভালোভাবেই বোঝেন।
http://sonarbangladesh.com/article.php?ID=5748

Save Bangladesh, Save people: No more Farakka