ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন। সাথে বাংলাদেশ ঘিরে চার প্রদেশের চার মূখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের সব উপকরণও মোদি সাথে করে আনছেন।

ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কি অনেক? বাংলাদেশ কি অন্যায্য কোন দাবি করছে? বাংলাদেশ তিস্তাসহ ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য অংশ দাবি করছে।ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ আশা করছে। কোন প্রকার পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা বা গতি পরিবর্তণ করা আশা করে না।

গত ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত তিস্তা দিয়ে আমরা আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার কিউসিক পানি পেতাম যা দিয়ে ১ লক্ষ ১৫ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছিল। ২০১৪ সাল থেকে পানির পরিমান অর্ধেকে নেমে আসে এবং এ বছর তা প্রায় শুন্যের কোঠায়। চাষাবাদের জমির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার একর এবং তা পরে কমিয়ে আনা হয় মাত্র ১৫ হাজার একর জমিতে। যে যন্ত্রের মাধ্যমে পানির পরিমান মাপা হয় পানি সে যন্ত্রের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এ শুকনো মৌসুমে।

জাতিসঙ্ঘ ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিকভাবে প্রবাহিত নদী নিয়ে একটি আইন পাশ করেছে যার নির্যাসটুকু হলো, উজানে বাঁধ দিয়ে পানি নিজেদের প্রয়োজনে ধরে রাখার অধিকার পেলেও কোন ভাবেই অন্যত্র সরিয়ে বা অন্য নদীতে প্রবাহিত করাতে পারবে না। এটা করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল যা পশ্চিম বঙ্গের মমতা করছে।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শালিশীর মাধ্যমে মায়ানমার ও ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করে সাগর বিজয় করছে। আমাদের তিস্তার পানি আমরা অধিকারের বলে পেতে চাই। ভারতের আশ্বাসবাণী আর শুনতে চাই না। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে।

কথায় কথায় সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক গুলি করে বাংলাদেশিকে হত্যা করা হচ্ছে। যদি কোন বাংলাদেশি কোন প্রকার অপরাধমূলক তৎপরতার সাথে জড়িত থাকে তবে নিশ্চই বিচারের পূর্বেই গুলি করে মেরে ফেলতে হবে তা কোন ‘সভ্য’ বা গণতান্ত্রিক দেশের ভাষা হতে পারে না। সীমান্তে এ হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে।

ভারতের সাথে রয়েছে বিশাল বানিজ্য ঘাটতি। ভারত থেকে আমদানির বিপরীতে খুব সামান্যই রপ্তানি হয়ে থাকে। অন্যতম বাঁধা হিসেবে রয়ে গেছে পণ্যের মান। বাংলাদেশের পণ্যমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দ্বারা মান নিয়ন্ত্রনে ভারতের আস্থা নেই। এটা খুব ও দ্রুত সমাধান আশা করছি। তারপরও বিশাল বানিজ্য ঘাটতি মিটবে না, তবে কিছুটা কমবে।

ভারতের বিভিন্ন শহরে বেশ কিছু সন্ত্রাসি (রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক) রয়েছে। ভারতে বসেই বাংলাদেশে ওরা ওদের গ্রুপ চালিত করছে, করছে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসি কর্মকান্ড। বাংলাদেশ সরকার সবসময়ই দ্বিপাক্ষিক বন্দিবিনিময় চুক্তি করতে চাচ্ছে এবং এ চুক্তি এবারের মোদির সফরের সময় দেখতে চাই।

বাংলাদেশের সাথে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ভারতের তা আগেই বলেছি। কিন্তু এর সাথে জড়িত রয়েছে ব্যাবসায়িদের ভারত সফর। শুধু ব্যবসায়িরা নন, চিকিৎসা সুবিধা নেয়া ও আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করার জন্যে ভিসা পদ্ধতি সহজ করতে হবে। এসময়ে অবশ্য প্রতি সপ্তাহে দশ-বারো হাজার ভিসা প্রত্যাশি ভিসা পাচ্ছেন। ভিসা পদ্ধতি সহজিকরণের জন্যে ডিজিটাল ভিসা কার্ড ইস্যু করা যেতে পারে।

বিমানবন্দরে নেমে মমতার মতোই মোদি কোন বাংলা শব্দ বা শ্লোগানের মতো সস্তা চমক দেখতে চাই না। মমতা তার প্রথম সফরে বিমানবন্দরে নেমে ‘জয়বাংলা’ বলে চিড়া ভিজাতে চেয়েছেন, তিস্তার পানি দিয়ে আমরা চিড়া ভিজাতে চাই।

ভারতকে ধন্যবাদ জানাতে চাই স্থল সীমান্ত চুক্তি তাদের সংসদে অনুমোদন করানোর জন্যে। ১৯৭৪ সালে দু’দেশের মধ্যেকার চুক্তি (মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত) অনুযায়ি আমরা সেসময় বেড়ুবাড়ি ভারতকে হস্তান্তর করছিলাম। কিন্তু ভারত ৪১ বছর পার করে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য বিভিন্ন সময় বাংলাদেশকে আশ্বস্থ করার চেষ্টা করেছেন তা বাস্তবায়িত হবে বলে।

আমরা ভারতকে আস্থায় নিতে চাই। ভূ-রাজনীতির কারণে চীনকে বাংলাদেশের কাছে ভিড়তে দিতে রাজি নয় ভারত। কিন্তু সেক্ষেত্রে ভারতের দায়িত্ব বাংলাদেশকে পাশে রাখা, প্রতিদ্বন্দি ভাবা নয়।

এম এস আলম, লন্ডন

৫ জুন, ২০১৫