ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুন ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল করে সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে জনপ্রিয়তা যাচাই করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে আরো সময় দিয়ে ঈদুল ফিতরের পর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণাও সোমবার নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় দিয়েছেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, রোজা ও ঈদের কারণে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আপাতত কঠোর কর্মসূচি দিচ্ছেন না তারা। তবে দাবি পূরণ না হলে ঈদের পর হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালে গত ১২ মার্চ নয়া পল্টনের মহাসমাবেশ থেকে সরকারকে তিন মাস সময় বেঁধে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তা না হলে ১১ জুন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার কথা সেদিন বলেছিলেন তিনি।

বিএনপির দাবি পূরণ না হওয়ার মধ্যে সোমবার পুনরায় জনসভা করে সরকারকে আরো সময় দিলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, “সরকারকে বলতে চাই, নির্দলীয় সরকারে দাবি মেনে নিন। এ সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করুন। আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। নইলে ঈদের পর হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে খালেদা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনাদের জনপ্রিয়তা থাকলে এত ভয় কেন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নিজের ও দলের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে আসুন, আমরা-আপনারা নির্বাচনে লড়াই করব। দেখব, কে জনপ্রিয়।”

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা মহানগরের সভাপতি সাদেক হোসেন খোকাসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে কারাগারে রেখে এই জনসভা হয়। হরতালের একটি মামলায় তারা কারাবন্দি।

জনসভায় জুন ও জুলাই মাসজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তা হলো- নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ১৭ জুন, গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে ২৪ জুন, নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান, সাংবাদিক সাগর-রুনি ও সৌদি কূটনীতিক খুনের বিচার দাবিতে ১ জুলাই, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সার-কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদের ১৫ জুলাই সারা দেশে সমাবেশ।

এছাড়া দুর্নীতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি-যানজট সমস্যার প্রতিবাদে ৮ জুলাই দেশের সব মহানগর ও জেলা সদরে সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

নয়া পল্টনে বিএনপির এই জনসভায় ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। জোটে না থাকলেও আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহি বি চৌধুরী।

জোটে ভাঙন ধরাতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের ঐক্যের ফাটল ধরাতে ষড়যন্ত্র চলছে। তবে তাতে সফল হবে না।”

এই সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে সরকার বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগ। তারা বলছে, বিভিন্ন জেলা থেকে বিরোধীদলীয় কর্মী-সমর্থকদের ঢাকায় আসা ঠেকাতে বাস-লঞ্চ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। পথে পথেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

জনসভায় খালেদা বলেন, “আজকের গণসমাবেশ ঠেকাতে সরকার অঘোষিত হরতাল করেছে। ১২ মার্চও তারা যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে এভাবে তিন দিন অঘোষিত হরতাল করেছে।”

৪০ মিনিট স্থায়ী বক্তব্যে খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।

বিরোধী দলের ওপর সরকার দমন-পীড়ন চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বিরোধী দল ও সাংবাদিকরা বর্তমানে সরকারের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। একের পর এক বিরোধী নেতা-কর্মীদের গুম করা হচ্ছে। সাংবাদিকরাও সরকারের রোষাণলে পড়েছে। এ সরকারের আমলে ১৪ জন সাংবাদিক হত্যা হয়েছে।”

সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধী নেতা বলেন, “তিনি বিডিআর হত্যাযজ্ঞের ঘটনার সময়ে বিদ্রোহী খুনিদের সঙ্গে সংলাপ করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন না।”

বিচার বিভাগে দলীয়করণের অভিযোগ তোলেন তিনি। স্পিকারের প্রতি এক বিচারকের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যদের আজ সম্মান নেই। সংসদের স্পিকারকে অসম্মান করা হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।”

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, আবদুল্লাহ মো. তাহের, তাসনীম আলম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।

জামায়াত নেতারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।

১৮ দলীয় নেতাদের মধ্যে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খাঁন, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, পিপলস লীগের সভাপতি গরীব নেওয়াজ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপি মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে উলামা ইসলামীর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল হক, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শমসের মবিন চৌধুরী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, মিজানুর রহমান মিনু, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মজিবুর রহমান সরোয়ার, জয়নুল আবদিন ফারুক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বজলুল বাসিত আনজু, শিরিন সুলতানা, শফিউল বারী বাবু, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এমআই/১৯২০ ঘ.