ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

সাভার, জুন ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সরকার ও মালিকপক্ষ আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও টানা তৃতীয় দিনের মতো পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘাত হয়েছে।

শিল্প পুলিশের আশুলিয়া জোনের পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বুধবার সকাল থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাংচুর করেছে শ্রমিকরা।

পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রকিুবল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ও আশেপাশের সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতির মালিকানাধীন হা-মীম গ্রুপের প্যাকেজিং কারখানা আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেডের শ্রমিকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত সোমবার থেকে প্রতিদিনই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে অসন্তোষ দেখিয়ে আসছে। আশেপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দিয়েছে তাদের সঙ্গে।

সংঘর্ষের কারণে সোম ও মঙ্গলবারও এ এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড কারখানা।

পরিদর্শক মোখলেস বলেন, “ওই কারখানার শ্রমিকরা সকালে এসে বন্ধের নোটিস দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। তারা নরসিংহপুর, জামগড়াসহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার ও কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।”

পুলিশ সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার শেলে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

বেলা ১০টার দিকে কয়েক হাজার শ্রমিক বাইপাইল এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে ঢাকা ইপিজেডের দিকে এগোতে থাকলে পুুলিশ জল কামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু শ্রমিকরা সেখান থেকে সরে গিয়ে জামগড়া, নরসিংহপুর ও সরকার মার্কেট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশের লাঠিপেটা ও টিয়ার শেলের জবাবে বৃষ্টির মতো ঢিল ছুড়তে থাকে তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাব সদস্যরাও মাঠে নামেন। পুলিশ ও র‌্যাবের তৎপরাতায় শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগের দুইদিনও সংঘাতের পর রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয় পুলিশকে। সোমবার চার ঘণ্টা এবং মঙ্গলবার সাড়ে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এ সময় বেশ কিছু যানবাহন ভাংচুর করা হয়। একটি কারখানায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চলে।

এদিকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে তাদের কাজের কথা বলে আর্টিস্টিক ডিজাইন কারখানায় নিয়ে মারধর করা হয়। এতে অন্তত ২৪ জন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হা-মীম গ্রুপের আশুলিয়া প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আলী ম-ল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কারখানা বন্ধের খবর পেয়ে কিছু শ্রমিক মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে জোর করে কারখানায় ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়।

অসন্তোষের কারণ জানতে চাইলে মঙ্গলবার তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য ও আশুলিয়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আর্টিস্টিকের শ্রমিকরা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর দাবিতে এ আন্দোলন শুরু করে। পরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অন্য কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

“বিষয়টি নিয়ে কারখানা মালিকদের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। বুধবারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে আশা করছি আমরা”, বলেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শ্রমমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তাদের দাবিগুলো কী, তাও আমাদের জানা নেই। এ অবস্থায় আজকের (মঙ্গলবার) বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।”

তবে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শ্রমিকদের স্বার্থেই বুধবার থেকে তাদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সভায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/জেকে/১২৫০ ঘ.