ক্যাটেগরিঃ bdnews24


সাভার, জুন ১৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আশুলিয়ায় পোশাক শিল্পে বিশৃঙ্খলা বন্ধে সরকারি উদ্যোগের মধ্যেই চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে শ্রমিক অসন্তোষ।

শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক ও নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষও হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা দেড়শরও বেশি গাড়ি ভাংচুর করেছে। পুলিশ সকালে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের তা-বের মুখে কিছুটা নিষ্ক্রিয় অবস্থান নিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আশুলিয়ার প্রায় সাড়ে তিনশ কারখানায়।

এদিকে টানা সহিংসতার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে বুধবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে তদন্ত কমিটি গঠনের পর এই কমিটির প্রধান স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংহপুরে হা-মীম গ্রুপের কারখানায় শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুও তার সঙ্গে ছিলেন।

আশুলিয়ার ওসি (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সকাল ৮টার দিকে নরসিংহপুরে হা মীমের কারখানায় বৈঠক শুরুর আধা ঘণ্টার মাথায় কয়েক হাজার শ্রমিক জামগড়া এলাকায় সড়কে জড়ো হয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এরপর তারা জামগড়া থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার ও কাঠ জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন।

বেলা সাড়ে ৯টার দিকে একদল শ্রমিক জামগড়ায় ‘ড্রেস আপ’ নামে একটি পোশাক কারখানা থেকে আসবাবপত্র বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ওসি মোস্তফা কামাল জানান।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কেও। বিক্ষোভকারীরা ওই সড়কের এবি ব্যাংক সাভার শাখার সামনে কাঠের গুড়ি জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের আরেক দফা সংঘর্ষ হয়।

এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলেও বিক্ষোভকারীরা সড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে তা-ব শুরু করে।

বেলা ১২টার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক ও নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বিক্ষোভকারীদের হাতে চলে যায়। সড়কের জামগড়া ও ইউনিক পয়েন্টে স্যুয়ারেজের বড় বড় পাইপ জড়ো করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিক ছাড়াও ‘বাইরের’ বহু লোককে বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে অলিগলিতে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

এফবিসিসিআই সভাপতির মালিকানাধীন হা-মীম গ্রুপের প্যাকেজিং কারখানা আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেডের শ্রমিকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত সোমবার থেকে প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টা করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে অসন্তোষ দেখিয়ে আসছে। আশেপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দিয়েছে তাদের সঙ্গে।

গত তিন দিনই সংঘাতের পর রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয় পুলিশকে। এ সময় শ্রমিকরা বেশ কিছু যানবাহন ভাংচুর করে। একটি কারখানায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চলে।

অসন্তোষের কারণে চার দিন ধরে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় কাজ বন্ধ রয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকালে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড কারখানা।

এই সহিংসতা থামাতে শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন শিল্প মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে মঙ্গল ও বুধবার দুই দফা বৈঠক করেন।

বুধবার বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কারখানাগুলোতে কর্মরত কোনো শ্রমিক এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত নয়। এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। কারা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত তা জানতে একটি কমিটি করা হয়েছে। সাভারের সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান।

শ্রমমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাড়ে ৩ হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে ৩৫০টিই আশুলিয়ায়। এতে সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/জেকে/১২৪০ ঘ.