ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুন ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে আশুলিয়া এলাকার সব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে পোশাক শিল্প মালিকরা।

শনিবার সন্ধ্যায় মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র এক সভায় এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সারাদেশের পোশাক কারখানা বন্ধের হুমকিও দিয়েছে তারা।

লিখিত বক্তব্যে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, “চলমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তি ও শিল্প উভয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অত্যন্ত অপারগ হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩ এর ১ ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আশুলিয়া এলাকার সব পোশাক কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি।”

একই সঙ্গে এ শিল্পের সুস্থধারা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “এ শিল্পকে অস্থির করার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত কারখানা খোলা সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে সারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিতে আমরা বাধ্য হবো।”

পোশাক কারখানায় এই অস্থিরতার পেছনে কারা রয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওয়ার অন ওয়ান্ট নামে একটি এনজিও রয়েছে। তাছাড়া ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের সাময়িকী অবজারভারের প্রভাবও রয়েছে।”

বেতন বাড়ানোসহ নানা দাবিতে বিক্ষোভের মুখে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম তা নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “কয়েকটি দৈনিকে বেতন না হওয়ার বিষয় নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর আমাদের পক্ষে এ অবস্থায় বেতন বাড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”

এর আগে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির পর শনিবার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা সকালে বিভিন্ন কারখানায় যোগ দেয়। তবে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা জিরাবো এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

এ সময় তাদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কে গাড়ি চলাচল প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিনই সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আসামি করে শুক্রবার একটি মামলা করেছে পুলিশ।

এদিকে আশুলিয়ায় টানা সহিংসতার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে গত বুধবার সরকার, শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদকে।

বৃহস্পতিবার মুরাদকে নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুও আশুলিয়া এলাকায় যান। তারা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

দেশের সাড়ে ৩ হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে ৩৫০টিই আশুলিয়ায়। এতে সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে।

তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ গত বৃহস্পতিবার এক সভায় জানিয়ে দিয়েছিল, রোববারের মধ্যে গোলযোগ বন্ধ না হলে সোমবার থেকে তারা আশুলিয়ার সব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেবেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএমআর/এএল/১৯০০ ঘ.