ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুন ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে এক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সন্দেহভাজন তৃতীয় ব্যক্তি কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছে। আইনজীবীদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বিবিসি এ খবর জানায়।

বৌদ্ধ নারী ধর্ষণ ও হত্যাকা-ন্ডের ঘটনায় মিয়ানমারে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধমূলক এই সহিংসতায় অন্ততপক্ষে ৫০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে ওই দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ঘটনা অপ্রত্যাশিত। দেশটিতে ১৯৮৮ সালের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।

বৌদ্ধ নারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত মাসে মুসলিম রৌহিঙ্গাদের বহনকারী একটি বাসে হামলা চালায় বৌদ্ধ রাখাইনরা। এতে ১০ ব্যক্তি নিহত হয়। এরপরই রাখাইন প্রদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

সহিংসতার মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করলে শত শত রৌহিঙ্গা নৌকা যোগে রাখাইন প্রদেশের সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। কিন্তু বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের ঢুকতে দেয়নি। এমন কী সোমবারও ১৫০ জনের একটি দলকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ।

গত ১০ জুন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইন রাখাইন প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।

তবে এই জরুরি অবস্থা জারিকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি অনেকে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে বৌদ্ধ ও মুসলিম দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের ওপরই নির্দয় নিপীড়ন চালানোর ইতিহাস রয়েছে।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

সু চি বর্তমানে ইউরোপ সফরে রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/সিআর/১০১৯ ঘ.