ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, মার্চ ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক গত সোমবার নির্বাচন কমিশনে যান একটি বিষয় নিশ্চিত হতে। তার জিজ্ঞাসা হলো- আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে কবে তাকে অবসরে যেতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক ১৩ বছর ধরে সরকারি চাকরি করছেন। এখন তিনি শেরপুরের একটি আসনে দশম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, “এলাকার লোক চায়, আমি নির্বাচন করি। আমার প্রস্তুতিও রয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থী হতে হলে তো কখন অবসরে যেতে হবে, তা জানতে এসেছিলাম।”

নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দলে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দলের নেতাদের এক ‘আদর্শ’ থেকে অন্য ‘আদর্শে’ দীক্ষিত হওয়ার চিত্র দেশে দীর্ঘদিনের।

তবে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সে পথ রুদ্ধ করায় এখন আগে-ভাগেই শুরু হয়েছে এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ।

ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন) মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন সরকারি কর্মকর্তা ও দলত্যাগী নেতাদের ভিড় বেড়েছে। তারা খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, কীভাবে কী করবেন।

সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে হলে ন্যূনতম তিন বছর কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে হবে। আর সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার তিন বছর পরই নির্বাচন করার সুযোগ হবে।

নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে ২৫ জানুয়ারি সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন হবে। সে হিসেবে নির্বাচনী আইন মেনে প্রার্থী হতে হলে এ মার্চ মাসেই অবসরে বা নতুন দলে ভিড়তে হবে।

নবম সংসদের আগেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দলবদল করে প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবার আইনের কড়াকড়ি প্রয়োগই করতে চান ইসি কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর গুণগত পরিবর্তনের জন্যই এ নির্বাচনী আইন করা হয়েছে। প্রার্থীদেরও এ আইন অনুসরণ করতে হবে।”

তবে এ আইন বাতিল করতে আগামী নির্বাচনের আগে কেউ আদালতে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত যেমন মিলেছে; তেমনি আগামী কমিশন যে আইনে সংশোধনী আনবে না- সে নিশ্চয়তাও নেই বলে মনে করছেন ইসির কয়েকজন কর্মকর্তাও।

আর এক বছরের মধ্যে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে ছহুল আশাবাদী, আগামী কমিশন এ ধারা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক ইতিবাচক সংস্কৃতি ধরে রাখতে আরো সক্রিয় হবেন, এটাই আশা করি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এমআই/০১২৯ ঘ.