ক্যাটেগরিঃ bdnews24


ঢাকা, জুলাই ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, প্রয়োজনে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশ্ব ব্যাংকের চুক্তি বাতিলে অন্য কারো ইন্ধনের ইঙ্গিত দিয়ে তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি। এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

দেশের বহুপ্রতীক্ষিত পদ্মা প্রকল্প থেকে গত শুক্রবার বিশ্ব ব্যাংক সরে যাওয়ার পর বুধবারই প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য এর আগে অর্থমন্ত্রী সংসদে ও সংসদে বাইরে সরকারের অবস্থান প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো দুর্নীতি হয়নি। আর যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার প্রমাণ মিললে ব্যবস্থাও সরকার নেবে।”

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার চুক্তি করা বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বাতিলের বিষয়ে বলেছে, এই প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছে তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে, এটা তাদের ইচ্ছা। অন্যরাও বন্ধ করতে পারে। পদ্মা সেতু করার জন্য দেশে আমাদের ১৬ কোটি মানুষ আছে, ৮০ লাখ প্রবাসী আছে।

“বাংলার মানুষ সারা জীবন কি অন্যের সাহায্যে চলবে? নিজের পায়ে দাঁড়াবে না? আত্মনির্ভরশীল হবে না?”

বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্ত শোনার পর নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গভর্নর, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, অর্থসচিব এবং সেতু বিভাগের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজস্ব অর্থায়নে কীভাবে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারি, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। পদ্মা সেতু আমরা করবই।”

পদ্মা সেতুর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ সংস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “রিজার্ভ থেকে প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলার খরচ করা বড় কিছু নয়।”

“আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করব, ইনশাল্লাহ। বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও আমরা আমাদের অর্থনীতি ধরে রাখতে পারলে এটাও পারব,” বলেন শেখ হাসিনা।

নিজেস্ব অর্থায়নে দেশের এই দীর্ঘতম সেতুটি তৈরির কথা বললেও পদ্মা সেতু প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বা বিওটি’তে হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে জটিলতার মধ্যেই মালয়শিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল সরকার। তারা অর্থায়নের প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে মালয়শিয়ার অর্থায়নে সেতু হলে তাতে খরচ বাড়বে বলে এতে আপত্তি জানিয়ে আসছে বিরোধী দল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মালয়শিয়া প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা আরো প্রস্তাব নেব। কিন্তু যে প্রস্তাবই নিই না কেন, তা জনগণের পক্ষে হতে হবে।”

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিও অভিযোগ জানান প্রধানমন্ত্রী। এজন্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফোর্বস সাময়িকীর প্রতিবেদন পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, “যারা একটি পয়সাও ছাড় করেনি, তারা দুর্নীতির অভিযোগ করে। তাদের ভেতর যে দুর্নীতি তা দেখেন।

“বিশ্ব ব্যাংক যোগাযোগ খাতে টাকা দিতে এগিয়ে আসে। হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই, তারা বলল- দুর্নীতি হয়েছে। একটি পয়সাও ছাড় দেয়নি, সেখানে দুর্নীতি কোথায় হয়েছে?”

“এর পেছনে কে আছে, কারা আছে, কী উদ্দেশ্য আছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর যোগাযোগমন্ত্রী পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জড়িত থাকলে মন্ত্রী চলে যাবে। আর মন্ত্রিত্ব পরিবর্তন করা নৈমত্তিক ব্যাপার।

পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের ‘দুর্নীতির’ কারণে বিশ্ব ব্যাংক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল।

১৯৯৬ সালে পদ্মা সেতুর ভিত্তিস্থাপন করা হলেও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এ সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপির দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

“বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসাবেলার (ইসাবেলা গেরেরো) আমার সঙ্গে দেখা করার পর আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম- দুর্নীতির কী তথ্য আছে? তিনি আমাকে দুটি চিঠি দেন। তাতে বিএনপির যোগাযোগমন্ত্রীর নাম আছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির জন্য বিএনপির আমলে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিলেও বিএনপি তাদের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে সরায়নি। আমরা সরিয়েছি।”

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য মন্ত্রী, সচিব ও প্রকল্প পরিচালককে সরানোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “এর আগে কোন সরকার তা করেছে?”

পদ্মা সেতুর প্রকল্প তদারকে প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে একটি কোম্পানির জন্য বিশ্ব ব্যাংক সুপারিশ করেছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা তিন বার চিঠি দিয়েছে। আমাদের বিশেষ কমিটি বলেছে, ওই কোম্পানিই তো ভুয়া। তাহলে দুর্নীতিটা হল কোথায়?”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এসআই/এমআই/২০৩৫ ঘ.