ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুলাই ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে একযোগে পদত্যাগ করেছেন বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যানরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আতাউর রহমান বুধবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিবন্ধক ড. আবু সিদ্দিকের কাছে ২৪ জন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাই আন্দোলনের অংশ হিসেবে পদত্যাগ করতে সম্মত হয়েছেন।

২৪ জন ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্রে সই করেছেন বলে জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

এই ২৪ জনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৭টি বিভাগের মধ্যে ১৬টি বিভাগের চেয়ারম্যান, তিনটি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও পাঁচটি অনুষদের ডিন রয়েছেন।

শিক্ষক সমিতির নেতা বলেন, বাকি একটি বিভাগের চেয়ারম্যান এখন ক্যাম্পাসে নেই।

এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির বৈঠকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে অবস্থান ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে পুরকৌশল বিভাগের সামনে থেকে একটি মৌন মিছিল বের করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিল ভবনের সামনে সমাবেশ করে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট ঘোষণা করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান।

সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটি ঘোষণা করেন উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলাম।

অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরাব আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অতো কিছু বুঝি না। আমরা চাই, একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা চালু থাকুক, যাতে আমাদের সেশনজটে পড়তে না হয়।”

উপাচার্য নজরুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এম হাবিবুর রহমানের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষকদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রাতে রোজা ও ঈদের আগাম ছুটি ঘোষণা করে।

এই দাবিতে আগামী ১৪ জুলাই থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা ছিল শিক্ষক সমিতির। তার আগেই এ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১১ অগাস্ট এই ছুটি শুরুর কথা থাকলেও মঙ্গলবার জানানো হয়, ১১ জুলাই থেকে ২৪ অগাস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজা ও ঈদের ছুটি চলবে।

ছুটি ঘোষণার পর রাতেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি গত ৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিলে শিক্ষক সমিতি তাদের আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করে। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ৭ জুলাই থেকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা কর্মবিরতি পালন করছিলেন শিক্ষকরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এএইচ/এমআই/১৮১২ ঘ.