ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুলাই ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- এইচএসবিসি ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্র শাখা থেকে বাংলাদেশে এমন কিছু ব্যাংকে অর্থ পাঠানো হয়েছে, যারা জঙ্গি সংগঠনে তহবিল যুগিয়েছে বলে মনে করে মার্কিন সিনেট।

মার্কিন সিনেট উপ কমিটির এক তদন্তের ভিত্তিতে মঙ্গলবার আলজাজিরা অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এইচএসবিসির শিথিল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকোর মাদকচক্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে কোটি কোটি ডলার পাচার করেছে।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে অর্থ জোগানোর অভিযোগ থাকলেও এইচএসবিসি এসব ব্যাংককে আর্থিক সেবা দিয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, সৌদি আরবের কিছু ব্যাংককেও এইচএসবিসি একই ধরনের সেবা দিয়েছে।

সিনেট কমিটি বলছে, এইচএসবিসির তদারক ব্যবস্থা যথাযথ না হওয়ায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে ব্যাংকটির মাধ্যমে মুদ্রা পাচার হয়ে আসছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরাচালান থেকে মুনাফা এইচএসবিসির মার্কিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন তদন্ত চালানোর পর সিনেটের উপ কমিটি জানিয়েছে, লন্ডনভিত্তিক ব্যাংকটির সমস্যা চিহ্নিত করার দুর্বল প্রক্রিয়া সম্পর্কে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবগত থাকলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সিনেট উপ-কমিটিতে মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এই উপ কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর কার্ল লেভিন সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন অর্থ ব্যবস্থায় ঢোকার পথ হিসেবে এইচএসবিসির যুক্তরাষ্ট্রের শাখাকে কাজে লাগানো হয়েছে। এই ব্যাংকে অর্থ পাচারের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তাদের যুক্তরাষ্ট্রের শাখাগুলোতে মেক্সিকোর মাদকচক্রের অর্থ এবং আরো কিছু সন্দেহজনক তহবিল এসেছে।

মাদকচক্রগুলো এইচএসবিসি ব্যাংকের মার্কিন শাখা দিয়ে ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল এভাবে অর্থ পাচার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে ব্যাংকটির কয়েকটি শাখা ইরানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে লেনদেন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এইচএসবিসির কর্মকাণ্ড ঠিকমতো পর্যবেক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকেও দোষারোপ করেছে সিনেট উপ কমিটি।

লেভিন বলেন, “কম্পট্রোলার অব কারেন্সি অফিস অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে এইচএসবিসির দুর্বল নিয়ন্ত্রণ দেখেও বছরের পর বছর সহ্য করে গেছে।”

এ কারণে মঙ্গলবারের শুনানিতে কম্পট্রোলার অব কারেন্সি অফিসের প্রধান টমাস কারিকেও ডাকা হয়েছে।

এদিকে এইচএসবিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিজেদের ‘দুর্বলতার’ জন্য শুনানিতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে।

“আমরা ক্ষমা চাইব। ভুল যে হয়েছে তা মেনে নেব। আমাদের কাজের জবাবদিহিতা করব এবং ভুল শোধরানোর পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেব।”

বিবৃতিতে এইসএসবিসি দাবি করেছে, অর্থ পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনগুলো আরো জোরালোভাবে অনুসরণের জন্য গত বছর ব্যাংকের ওপরের দিকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিশ্বের ৮০টি দেশে ছড়িয়ে থাকা এইচএসবিসি গত বছর আয় করেছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউ/১৮২৩ ঘ.