ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 


ঢাকা, আগস্ট ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল বিএনপি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সরকার পরিকল্পিতভাবে গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার জন্য অধ্যাদেশ সংশোধনে উদ্যোগ নিয়েছে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়েই তারা এ ধরনের হীন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ’ জারির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান বোর্ডের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করবেন। এ প্যানেল থেকে একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করবেন তিনি।

এর আগে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য বোর্ড একটি সিলেকশন কমিটি গঠন করার বিধান ছিল। সংশোধনীতে ওই বিধানটি বাতিল করা হয়েছে।

একইসঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্ধারিত বয়সের চেয়ে বেশি সময় থাকা বৈধ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকাকালে ইউনূস ‘ওয়েজআর্নার’ হিসেবে কত টাকা বিদেশ থেকে এনেছেন এবং তিনি তা আনতে পারেন কি না, এনে থাকলে কর অব্যাহতি নিয়েছিলেন কি না, কর অব্যাহতি নেওয়া বৈধ ছিল কি না- সেসব বিষয়েও একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)।

সরকারের এই উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বিবৃতিতে বলেন, “লাখ লাখ গরীব মানুষের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট গ্রামীণ ব্যাংককে ক্ষতিগ্রস্ত করে সরকার তাদের অন্ধ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকার যাকে প্রতিপক্ষ মনে করে, তাকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখে। আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের মর্যাদাহানী ও ক্ষতি করে সরকার জাতীয় ভাবমূর্তিকেই নষ্ট করেছে।”

মন্ত্রিসভার ওই সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো প্রতিক্রিয়ায় ইউনূস বলেন, সরকার আসলে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা পুরোপুরি নিতে চায়। সরকারের এই উদ্যোগ প্রতিরোধে দেশবাসীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান এর প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

“আমি আগে থেকে এই শঙ্কা প্রকাশ করে এসেছি। এখন আমার শঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে”, বলেন ইউনূস।

ইউনূসের ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল বিবৃতিতে বলেন, “আমরা অবিলম্বে সরকারকে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ বন্ধ করে গরীব মানুষের এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচানোর আহবান জানাচ্ছি।”

তা না হলে সব দল-মত, শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে ‘স্বৈরাচার সরকারের বিধ্বংসী সর্বনাশা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে’ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই ইউনূস এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসলেও ২০১১ সালে অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তার এমডি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই বছর মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়, তখন তার বয়স প্রায় ৭১ বছর।

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টাকে ‘শান্তি স্থাপন’ বিবেচনা করে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/জেকে/১৬১০ ঘ.