ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অগাস্ট ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হলে স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন একজন অর্থনীতিবিদ, যিনি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হয়ে কাজ করেছেন।

আবদুর রহিম চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মারকুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মতে, অন্য খাত থেকে তহবিল সরিয়ে পদ্মা সেতুতে দিলে ব্যাপক কৃচ্ছ্ব সাধনের প্রয়োজন পড়বে, আর তাতে পিছিয়ে পড়বে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ৬ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও এই অর্জন সব খাতে সমানভাবে হচ্ছে না।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে ফিনিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গবেষক আবদুর রহিম চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গত দুই মাসে বাংলাদেশে খাদ্যের দাম কিছুটা কমে এলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে খরার কারণে বিশ্বজুড়ে খ্যাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে পারে।

“তাছাড়া কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমাদের জ্বালানি আমদানির ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিও ধীরে ধীরে বাড়বে”, বলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান মুদ্রানীতি দেশের অর্থনীতির খুব একটা উপকারে আসছে না বলেও মত প্রকাশ করেন ইউরোপে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক কমিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ আবদুর রহিম।

তিনি বলেন, “এই সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি টেনে ধরবে এবং আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা বাড়াবে।”

এই মুদ্রানীতি দিয়ে সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ করার প্রবণতার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সীমিত হয়ে আসবে। এতে করে ব্যাংক খাতে তারল্য সঙ্কট তৈরি হবে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে বংলাদেশ ব্যাংকের আরো সতর্ক নীতি গ্রহণ করা উচিৎ। পাশাপাশি গার্মেন্ট শিল্পের মতো উৎপাদনমুখী খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো যেতে পারে।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও নিজের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক।

তিনি বলেন, যেহেতু প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ বিদেশি মুদ্রায় মেটাতে হবে, সেহেতু নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গেলে ডলারের বিপরীতে টাকা অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে।

তাছাড়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই অবকাঠামো নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি সুরাহা না হলে ঋণদাতারা অতি সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। আর সেক্ষেত্রে বিদেশি ঋণ প্রাবাহও কমে যাবে বলে সতর্ক করে দেন আবদুর রহিম চৌধুরী।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রবৃদ্ধির হার কতো হলো সেদিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বদলে আমাদের প্রবৃদ্ধির মান নিয়ে কাজ করা উচিৎ। এই প্রবৃদ্ধি হতে হবে সব খাতে সামগ্রিকভাবে, যাতে আরো বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে। একইসঙ্গে এই প্রবৃদ্ধিকে পরিবেশবান্ধবও হতে হবে।”

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, করের জন্য সব নাগরিকের ওপর একইভাব নির্ভর না করে সরকারকে ধনীদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে হবে।

“বাংলাদেশে আয়কর সংগ্রহে প্রবৃদ্ধির হার, ভ্যাটে প্রবৃদ্ধির চেয়েও কম। সুতরাং কর মওকুফের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে সরাসরি কর সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”

তাছাড়া অবকাঠামো খাতে খুব বেশি বিনিয়োগ না হওয়ায় বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেন আবদুর রহিম চৌধুরী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/জিএনএ/জেকে/১১০৯ ঘ.