ক্যাটেগরিঃ bdnews24


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পাওয়া আশ্বাসের বাস্তবায়ন হলেই ক্লাসে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র সুদীপ্ত সাহা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সুনির্দিষ্টভাবে উপ উপাচার্যকে প্রত্যাহার, মামলা সংক্রান্ত সকল জটিলতার পূর্ণ নিস্পত্তি, হল প্রশাসনসহ সকল প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক রদবদল- এই সকল প্রস্তাব সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে গেলে ক্লাসে ফিরে যেতে আমরা প্রস্তুত। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছি।”

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বুয়েটের ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং রক্ষার জন্য যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন তার সবকিছুই করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী প্রত্যক্ষ নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আন্দোলনকারী কোনো শিক্ষার্থী কোনো প্রকার একাডেমিক অবিচার, শারীরিক লাঞ্ছনা বা প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপূর্বক সেটির সমাধান করা হবে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।

“এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় যে গুচ্ছপ্রস্তাব হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে শিক্ষামন্ত্রী সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন।”

নিজেদের দাবি প্রসঙ্গে এই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, “উপাচার্যের পদত্যাগ/অপসারণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিটি অত্যন্ত স্পষ্ট। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায় যে, বর্তমান উপাচার্য থাকা অবস্থায় বুয়েটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা কানোভাবেই সম্ভব নয় এবং বুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম তথা সার্বিকভাবে বুয়েট কোনোক্রমেই নিরাপদ নয়।

“আমরা বিশ্বাস করি, চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ/অপসারণের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সকলের প্রাণের দাবি পূরণ করবেন।”

সুদীপ্ত বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজয় হয়েছে, নৈতিকতার জয় হয়েছে। এই বিজয়ের জন্যই তারা অপেক্ষা করছিলেন।

দাবি বাস্তবায়িত হতে সময় লাগলে ক্লাসে ফিরে যেতেও সময় নেবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সুদীপ্ত বলেন, “এই মুহূর্তে দাবি বাস্তবায়ন হলে আমরা এখনই ক্লাসে ফিরে যাব।”

অবশ্য সংবাদ সম্মেলনের পরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রদের সংশয় কেটে গেছে। কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিসির প্রতি সকলের অনাস্থা রয়েছে।”

শনিবারের মধ্যে প্রশাসনিক রদবদলসহ ক্লাস শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই শিক্ষক নেতা।

তিনি বলেন, “উপাচার্যের অপসারণে মন্ত্রীর আশ্বাস নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে হয়তো ক্লাসে ফিরে যেতে পারব।”

শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অভীক রায়, মেরিনা জাহান, ফাহিম তানভির উপস্থিত ছিলেন।

অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলাম ও উপ উপাচার্য হাবিবুর রহমানের অপসারণ দাবিতে গত এপ্রিল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বুয়েট শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীরাও সেই আন্দোলনে যোগ দেয়।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে এবার ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয় আগেভাগে। এরপর গত ২৫ অগাস্ট বুয়েট খুললেও আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার বাড়িতে বুয়েটের শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরাতে রাজি করান। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, উপ উপাচার্যকে প্রত্যাহার করা হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষক-ছাত্রদের বিরুদ্ধে বুয়েট কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলাও তুলে নেওয়া হবে।

মন্ত্রীর আশ্বাসের পরদিনই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য থানায় আবেদন করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকরাও জানান, তারা ক্লাসে ফেরার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে এরপরও শিক্ষার্থীরা দাবিতে অনড় থাকলে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তাদের সঙ্গে বসেন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি আশ্বাস দেন, আন্দোলনকারীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন- তা তিনি দেখবেন।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বলেন, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তারাও ‘আশ্বস্ত’, তবে সিদ্ধান্ত জানাতে তাদের সময় প্রয়োজন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/জেকে/১৬৩০ ঘ.