ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দূর করতে প্রয়োজনে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের শুরুতে তিনি বলেন, “কঠোরতার সঙ্গে নয়। আমরা বুঝিয়ে শুনিয়ে সমাধান করতে চাই। তবে কঠোর কীভাবে হতে হয়- তা আমাদের জানা আছে।”

বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসন্তোষের বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেন। কিন্তু একে পছন্দ নয়, ওকে পছন্দ নয়, কে থাকবে, কে থাকবে না- তার জন্য কয়েকজন শিক্ষক নেমে গেলেন।”

উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের কর্মসূচিতে ছাত্রদের সম্পৃক্ত করারও সমালোচনা করেন তিনি।

সম্প্রতি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষকদের পথ অনুসরণ করে আন্দোলন শুরু করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ক্লাস বর্জন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ অচলাবস্থা নিরসণে গেল সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উপ-উপাচার্যের অপসারণসহ অন্যান্য দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার ছেলেকে বেয়াদব বানালে। একদিন সে ছেলে আপনাকেও চড় মারবে।”

বুয়েটের উপাচার্যের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিজেদের রক্ত নিয়ে সিঁড়িতে ফেলে রাখার ঘটনাকে ‘বিকৃত মানসিকতা’ হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “কীভাবে একটা ছেলে একটা মেয়ের শরীর থেকে রক্ত নেয়। কীভাবে আবার তা সিঁড়িতে ফেলে রাখে। এই বিকৃত মানসিকতা কোথা থেকে আসে।”

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “অফিস থেকে ছবি সরালেন। ছাত্রদের নামালেন। যারা সহকর্মীদের অপমান করলেন, তারাও একদিন অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। ছাত্রদের যে জিনিস শেখাচ্ছেন, সে পরিস্থিতে তারাও পড়তে পারেন।”

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকের পর শিক্ষকদের ভোল পাল্টে ফেলার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “সমস্যা সকলে জানাতে পারেন। আমরা তো অবহেলা কারি না। অনেকে আমাদের কথা দিয়ে যান, পরে তা রাখেন না- এটা দুঃখের বিষয়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এএল/১৯৫০ ঘ.