ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা বিশ্ব ব্যাংকের অবস্থান ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন করছেন- এমন অভিযোগ এনে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে এ প্রকল্পের প্রধান ঋণদাতা সংস্থাটি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ কয়েকদফা বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছে। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া না পেয়েই গত ২৯ জুন সংস্থাটি ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে।

পরে বিশ্ব ব্যাংকের তিনটি শর্ত মেনে সরকার পুনঅর্থায়নের অনুরোধ জানানোয় গত ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা প্রকল্পে এই বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থার ফেরার ঘোষণা আসে।

ওইদিন বহুজাতিক এ ঋণদাতা সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ব্যাংকের চারটি শর্ত সন্তোষজনকভাবে পূরণ করায় এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সম্মত হওয়ায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে নতুন করে যোগ দিচ্ছে।”

বিশ্ব ব্যাংকের এই শর্তগুলো ছিল- ১. এ প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন সব সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠাতে হবে। ২. দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে এ দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে। ৩. এই তদন্তের সার্বিক তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি প্যানেলকে পাঠাতে হবে, যাতে তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিশ্ব ব্যাংক এবং অন্য ঋণ দাতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারে। এবং ৪. সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে যাতে বিশ্ব ব্যাংক ও অপর ঋণ দাতারা প্রকল্পের ক্রয় কর্মকাণ্ড আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়।

২০ সেপ্টেম্বর বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনার অনুরোধ’ জানায়। প্রকল্পের ক্রয় নীতিমালা পরিবর্তন, দুর্নীতির সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা এবং এ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্ব ব্যাংককে জানাতেও সরকার সম্মত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পদ্মা সেতু তৈরিতে গত বছরের প্রথমার্ধে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি করে সরকার। ২৯১ কোটি ডলারে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের নকশা হয়। শুরু হয় জমি অধিগ্রহণও।

কিন্তু প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য প্রাথমিক যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কানাডার এসএনসি লাভালিনের বিরুদ্ধে ওই দেশের পুলিশ দুর্নীতির অভিযোগ তুললে বিশ্ব ব্যাংক তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার কথা জানিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্থগিত করে।

এরপর ঋণের অর্থ পেতে কয়েকটি শর্ত দেয় সংস্থাটি, যা পূরণ হয়নি জানিয়ে ঋণচুক্তি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ফলে এডিবির ৬১ কোটি ৫০ লাখ, জাইকার ৪০ কোটি এবং আইডিবি ১৪ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতিও আটকে যায়।

বিশ্ব ব্যাংকের ওই সিদ্ধান্তে সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়, বিশ্ব ব্যাংককে আক্রমণ করে বক্তব্য আসে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব ব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় মন্ত্রিসভায়। মালয়শিয়ার সঙ্গেও এ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায় সরকার।

তবে তার মধ্যেও বিশ্ব ব্যাংককে ফেরানোর আলোচনা চলে, যার অংশ হিসেবে শর্ত পূরণে পদত্যাগ করেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, ছুটিতে যান সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। প্রকল্পের ইন্টেগ্রিটি অ্যাডভাইজর মসিউর রহমানের ছুটিতে যাওয়ার খবরও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, যদিও তিনি তা অস্বীকার করে আসছেন।

এর মধ্যে ওয়াশিংটনে যান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ওয়াশিংটনে সংস্থার সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ঢাকায় বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইনও সমঝোতার আলোচনায় অংশ নেন।

ওই বৈঠকেই বিশ্ব ব্যাংকের দেয়া চার শর্তের শেষ শর্ত (মসিউরের ছুটিতে যাওয়া) নিয়ে সমঝোতার পর পদ্মা সেতু প্রকল্পে বহুজাতিক দাতা সংস্থাটির ফিরে আসার পথ তৈরি হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/জেকে/১১৩০ ঘ.