ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

রিয়াজুল বাশার

ঢাকা, এপ্রিল ২৫ (বিডিনউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ‘এখতিয়ার বহির্ভূত’ভাবে সহযোগী প্রতিষ্ঠানে তহবিল স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে মত দিয়েছে এ সংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটি মনে করে, কর কম দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং এ তহবিল প্রকৃত সুদবাহী করতে গ্রামীণ কল্যাণে অর্থ স্থানান্তর করা হয় যা গ্রামীণ ব্যাংকের এখতিয়ার-বহির্ভূত।

গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি সরকারের কাছে সোমবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হয়। এতে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল গ্রামীণ কল্যাণ নামে সহযোগী একটি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে।

ওই প্রামাণ্যচিত্রের ভিত্তিতে বাংলাদেশে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। পরবর্তীতে বিষয়টি দেশ বিদেশের গণমাধ্যমসহ সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন। এরপরই গ্রামীণ ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম তদন্তে সরকার এ কমিটি গঠন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন মনোওয়ার উদ্দিন আহমদকে চেয়ারম্যান করে গঠিত এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা, সাবেক ডেপুটি কম্পোট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল সৈয়দা রোকিয়া দীন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) প্রাক্তন অধ্যাপক আর এম দেবনাথ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহসিন রশীদ।

কমিটি তার প্রতিবেদনে বলেছে, “প্রতীয়মান হয় যে, নরওয়ীয় সরকার নোরাড কর্তৃক গ্রামীণ ব্যাংককে দেয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার/হস্তান্তর ইত্যাদি বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগটি নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে, ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থান্তাতরের বিষয়টি গ্রামীণ ব্যংকের এখতিয়ার বহির্ভূত ছিল।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “৩১ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে নোরাডসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থা কর্তৃক গ্রামীণ ব্যাংককে রিভলবিং ফান্ড হিসাবে প্রদত্ত ৩৪৭.১৮ কোটি টাকা গ্রামীণ ব্যাংক হতে গ্রামীণ কল্যাণের নিকট স্থানান্তর করে। ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটে দাতাসংস্থাসমূহের নিকট হতে প্রাপ্ত রিভলবিং ফান্ড হিসাব ডেবিট করে বরোয়িং ফ্রম গ্রামীণ কল্যাণ ক্রেডিট অর্থাৎ ইক্যুইটি হ্রাস করে দায় হিসাব সৃষ্টি করা হয়েছে।”

“এতে উক্ত ফান্ডের মালিকানা বা স্বত্ত্ব হস্তান্তরিত হয়েছে। গ্রামীণ কল্যাণের নিকট কোনো দায় বা প্রতিদান ব্যতিরেকে অর্থ প্রদান করায় প্রকৃতপক্ষে তা একটি অনুদান বলে বিবেচনা করা যায়। রিভলবিং ফান্ড গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃক পুনঃপৌনিকভাবে ব্যবহার হওয়াই যুক্তিসঙ্গত।”

“তাছাড়া, নোরাডের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত চুক্তিতে এ তহবিল গ্রামীণ ব্যাংক ভিন্ন অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে স্থাআন্তরের বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংকের এ কার্যক্রম ক্ষমতা বহির্ভূত (টষঃৎধ ঠরৎবং) ছিল। ফলে, ১৫ ডিসেম্বর ১৯৯৭ তারিখে নরওয়ে দুতাবাসের উত্থাপিত আপত্তি যৌক্তিকÑমর্মে প্রতীয়মান হয়।”

“নরওয়ে দূতাবাসের বরাবর গ্রামীণ ব্যাংক ৮ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখের পত্রের জবাবে গ্রামীণ ব্যাংক তহবিল স্থানান্তরের বিষয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তহবিলটি পরিচালিত হলে এবং ঋণ হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃক তা ব্যবহৃত হলে তহবিলের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রিভলবিং ফান্ড হিসাবসমূহের সদ্বব্যবহার, ব্যাংকের ওপর করভার হ্রাস হবেÑ মর্মে উল্লেখ করা হয়।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “গ্রামীণ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তহবিল এসএএফ এ অর্থ স্থানান্তরিত হলে প্রকৃত খরচ না হওয়ায় তা কর অব্যাহতিযোগ্য খরচ বলে বিবেচিত হবে না অশঙ্কায় এ তহবিল প্রকৃত সুদবাহী করার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণ কল্যাণ নামীয় প্রতিষ্ঠানের নিকট তা স্থানান্তর করে ও গ্রামীণ কল্যাণের নিকট হতে ঋণ গ্রহণ খাত সৃষ্টি করে।”

“করভার হ্রাসের অজুহাতে অনুদানের অর্থ দাতাদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে পুনরায় অন্যকে অনুদান দেওয়া গ্রামীণ ব্যাংকের এখতিয়ার বহির্ভূত।”

বিডিনউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/পিডি/২০২১ ঘ.

————————————————————————————————————————-
:: দৃষ্টি আকর্ষণ ::
সকল ব্লগার ও মন্তব্য দাতার কাছ থেকে মূলত বাংলায় মন্তব্য করার অনুরোধ করা যাচ্ছে
কারণ বাংলা ব্লগে বাংলায় মন্তব্য ব্লগারদের কাছে গ্রহণযোগ্য বেশি।
মন্তব্য ঘরের নীচে ইউনিজয় /ফোনেটিক /প্রভাত ব্যবহার করে আপনি সহজেই বাংলা লিখতে পারবেন।