ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, এপ্রিল ২৫ (বিডিনিউজ টেয়েন্টিফোর ডটকম)- গ্রামীণ ব্যাংক থেকে গ্রামীণ কল্যাণে তহবিল স্থানাস্তরে আর্থিক অনিয়ম ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে বলে পর্যালোচনা কমিটিকে মত দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

কমিটিকে বিশিষ্টজনরা বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের সুনাম ব্যবহার করে অর্জিত অনুদানের অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ায় আইনের গুরুতর লঙ্ঘন সাধিত হয়েছে এবং এতে গ্রামীণ ব্যাংকের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

“গ্রামীণ ব্যাংকে ঋণ আদায়ের নামে ঋণ গ্রহীতাকে হয়রানি করা হয়। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকে আত্মহত্যাও করেছে।”

নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রকৃতই কতটা নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি সরকারের কাছে সোমবার প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনের ‘সুশীল সমাজের সদস্যসহ ক্ষুদ্র ঋণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মতামত’ অংশে বিশিষ্টজনদের এ মত প্রকাশ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এসআর ওসমানী, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রশীদ, কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মঈনুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক জরীনা রহমান খান, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাক্তন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ খালেদ শামস্্, গ্রামীণ ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস নূরজাহান বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পর্যালোচনা কমিটিকে মত দেন।

গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হয়। এতে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল গ্রামীণ কল্যাণ নামে সহযোগী একটি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে।

ওই প্রামাণ্যচিত্রের ভিত্তিতে বাংলাদেশে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। পরবর্তীতে বিষয়টি দেশ বিদেশের গণমাধ্যমসহ সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন। এরপরই গ্রামীণ ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম তদন্তে সরকার এ কমিটি গঠন করে।

গ্রামীণ ব্যাংককে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক অ্যাখ্যা দিয়ে বিশিষ্টজনরা কমিটিকে বলেন, সুদৃঢ় কাঠামো নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের ‘ইনোভেটিভ ক্যারেক্টার’ না থাকলে তা ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের মাধ্যমে দেশের পল্লী অঞ্চলে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করে তা আদায় করা সম্ভব বলে প্রমাণিত হয়েছে। এবং গ্রামীণ ব্যাংক ব্যাংকিং জগতে ঋণ ধারণার একটি নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে বলেও পর্যালোচনা কমিটির কাছে মত দেওয়া হয়েছে।

নয়জন পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে তারা বলেছেন, ভোটের সংখ্যাধিক্যের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের সদস্যগণের মধ্য হতে নির্বাচিত নয় জন পরিচালকের কাছে চেয়ারম্যানসহ সরকারের নিয়োজিত তিন জনের মতামত যুক্তিগ্রাহ্য হলেও সংখ্যাধিক্যের বিচারে তা গৃহীত নাও হতে পারে।

“সহযোগী প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সামাজিক সুবিধার পাশাপাশি ব্যবসায়িক মুনাফার একটি সমতাকরণ করতে হবে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাবায়নে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।”

গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশে উল্লিখিত অনুপাত লঙ্ঘন করে সরকারের তুলনায় সদস্যদের বেশি শেয়ার বিতরণ করা হয়েছে- বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নরওয়ীয় সরকার বিষয়টি নিষ্পত্তিকৃত বিবেচনা করলেও কর ফাঁকি দেওয়ার এ প্রচেষ্টায় দেশের সরকারের ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না।”

বিডিনিউজ টেয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/পিডি/২৩৫৬ ঘ.