ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, মে ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের করা আবেদনও (রিকল) খারিজ করেছে আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার খারিজের এ আদেশ দেয়।

অনুমোদন না নিয়ে পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে নোবেলজয়ী ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়। এর বিরুদ্ধে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের ৯ পরিচালকের করা দুটি রিট আবেদন গত ৮ মার্চ সরাসরি খারিজ করে হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইউনূসের করা আপিলের আবেদন গত ৫ এপ্রিল খারিজ করে আপিল বিভাগ। কিন্তু ইউনূস আদেশ প্রত্যাহারের (রিকল) আবেদন করেন।

আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, ভ্রান্ত ধারণা থেকে ইউনূসের লিভ টু আপিল খারিজের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন (রিকল) করা হয়েছে। যদিও আমরা সংবিধান ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী (আবেদনটি) শুনেছি, রিকল হিসেবে নয়।

এর মধ্য চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ে ইউনূস হারলেন কি না- জানতে চাওয়া হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “দেখি, তারা রিভিউ করেন কি না।”

ইউনূসের কৌঁসুলি ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের সংবিধান পুরোপুরি লঙ্ঘিতদ হয়েছিলো। তার প্রতিকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম, কিন্তু তা পাইনি।

“৫২ বছর ধরে আমি প্র্যাকটিস করছি, কিন্তু এমন নজিরবিহীন রায় দেখিনি”, বলেন তিনি।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় কামাল আরো বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে শিখতে এখন আমাকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে।”

রিভিউ আবেদন করবেন কি না- জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রায় দেখে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউনূসের রিকল আবেদনের পাশাপাশি একই বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের নয় জন পরিচালকের আপিলের আবেদনও (লিভ টু আপিল) বুধবার খারিজ করে আপিল বিভাগ।

আদেশের পর নয় পরিচালক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নোবেলজয়ী ইউনূসকে নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

এ বিষয়ে সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “তা সম্ভব নয়, কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মধ্য থেকে সরকার মনোনীতদের মধ্য থেকেই চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।”

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনূসকে অব্যাহতি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে দেশে-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও এর সমালোচনায় মুখর হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক স¤প্রতি ঢাকা সফরে এসে ইউনূস ইস্যুতে ‘সম্মানজনকভাবে’ সুরাহা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তা না হলে তা কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তার সফরের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে সমঝোতার জন্য ইউনূসকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তিন দশক আগে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ইউনূস এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠাকালে এ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ৬০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ২০ শতাংশে নিচে নেমে এসেছে, যার সমালোচনা করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল জয় করেন ইউনূস, তার সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংককেও মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

তবে গত বছরের ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বিদেশি অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ওঠে। পরে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার।

এর পরপরই বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইউনূসের পদে থাকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তবে ইউনূস বলেন, তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরতে চাইলেও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কারণে তাকে থেকে যেতে হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের ২০ হাজার কর্মী এবং ৮৩ লাখ ঋণগ্রহীতা রয়েছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ধাক্কা’ না দিতেও অনুরোধ করেন ইউনূস।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তার রাজনৈতিক দল গড়ার প্রয়াস নিয়েও নতুন করে আলোচনা তোলেন সরকারি দলের বিভিন্ন নেতা।

আর এ বিতর্কে প্রধান বিরোধী দল ইউনূসের পক্ষ নেয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়ে বলেন, সরকার ‘ঈর্ষান্বিত’ হয়ে ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/এমআই/১১৩০ ঘ.