ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, মে ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ট্রানজিটের জন্য শুধু খরচের অংশ বহন করলেই হবে না, এই সেবার জন্য আলাদাভাবে মাশুলও দিতে হবে ভারতকে।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, কেবল ট্রানজিটের অবকাঠামো তৈরির খরচ ওঠানো বাংলাদেশের উদ্দেশ্য হতে পারে না। এই সেবার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলো যেহেতু লাভবান হবে, সেহেতু এজন্য তাদের ট্রানজিট ফি বা মাশুলও দিতে হবে।

এর আগে গত ৩১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেন, ট্রানজিট ফি আদায় করা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিওটিও) নিয়মের পরিপন্থী।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, “আমরা যদি অসভ্য হতাম অথবা আমাদের নেতারা যদি অশিক্ষিত হতেন, তাহলে আমরা বাড়তি সুবিধা চাইতে পারতাম। কিন্তু পরিস্থিতি তো সে রকম নয়।”

এ প্রসঙ্গে দীপু মনি বলেন, ট্রানজিট ফির ইস্যুটি অনেক বড় বিষয়, সরকার এখনো এই ফি নির্ধারণ করতে পারেনি। তবে এটা ঠিক যে সর্ভিস চার্জ বা ট্রানজিট মাশুল আদায় করা হবে। ডব্লিউটিওতেও এর উল্লেখ আছে।

তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই তা ঠিক করা হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ট্রানজিট সুবিধা দিতে হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব বেশি মাশুল নির্ধারণ করা হলে অন্যান্য দেশ এ ব্যাপারে অনাগ্রহী হতে পারে।

খালেদা জিয়ার বিদেশ সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশের সরকার প্রধান কিংবা বিরোধী দলীয় নেতা যখন বিদেশে যান, তখন সে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন- এটাই স্বাভাবিক।”

বিএনপি চেয়ারপার্সন বিদেশ সফরে দেশের রাজনীতি নিয়ে যে আলোচনা করছেন, সরকার তাতে বিব্রত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারো সহযোগিতা চেয়ে নিজের পক্ষে সমর্থন নেওয়া কতোটা বিব্রতকর জনগণই সেটা ভালো জানে।”

খালেদা জিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্য সফর করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তিনি (খালেদা) দেশের রাজনীতির বিষয়ে বিদেশে গিয়ে সহায্য না চেয়ে সংসদে যোগ দিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।”

যৌথ ইশতেহারের অগ্রগতি

গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের ঘোষিত যৌথ ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এর তদারক করছে। তিস্তার পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য ঘাটতির মতো বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কূটনৈতিক সম্পর্ক

গ্রামীণ ব্যাংক ও মুহাম্মদ ইউনূস সংক্রান্ত ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, লিবিয়ার একটি সরকারি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে নেয়নি।

“কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের (যুক্তরাষ্ট্র সরকার) পর্যবেক্ষণ ও নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। এটাই স্বাভাবিক।”

এখনো ৩০ হাজার বাংলাদেশি লিবিয়ায় অবস্থান করছেন জানিয়ে দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।”

মানবাধিকার পরিস্থিতি

র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

“সরকার তাদের মদদ দিচ্ছে না। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ থাকলেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাদের মদদ দিচ্ছে না। এটিই দুই সরকারের মধ্যে মূল পার্থক্য।”

বিএনপি সরকার র‌্যাব গঠন করেছিলো জানিয়ে দীপু মনি বলেন, একটি সংস্থার চরিত্র রাতারাতি বদলে যাবে এমন প্রত্যাশা করা ঠিক না। তবে কোনো বাহিনীই সরকারের ঊর্ধ্বে নয়, খারাপ কর্মকাণ্ডের জন্য সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/এএল/জেকে/২০০৯ ঘ.