ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মে ২৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কারা আদিবাসী, আর কারা নয়- তা স্পষ্ট করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের এই সদস্য শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকার জোর করে কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে তা হবে না।

আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের (ইউএনপিএফআইআই) অধিবেশনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ইকবাল আহমেদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন সুলতানা কামাল।

বুধবার নিউইয়র্কে ওই বৈঠকে ইকবাল আহমেদ দাবি করেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। ফলে আদিবাসীদের জন্য ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনারও অবকাশ নেই।

ইউএনপিএফআইআইর ওই অধিবেশনের দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ বৈঠকে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর একটি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়।

ফোরামের সদস্যরা ‘আদিবাসী’ এবং’ উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’কে এক করতে চাচ্ছেন মন্তব্য করে ইকবাল আহমেদ বলেন, প্রকৃত ঘটনা তা নয়। বরং, বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও স¤প্রতি আদিবাসী বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেন।

২৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সাঁওতাল ছাড়া কোনো আদিবাসী নেই।

এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, “আমরা তাদের (আদিবাসীদের) চেয়ে এ ভূখণ্ডে আগে এসেছি কি না- এখন কি আমাদের এ প্রশ্ন করা উচিৎ? তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কেন শুধু সাঁওতালদের স্বীকৃতি দিলেন? অন্যদের বিষয়টি কি?”

সাবেক উপদেষ্টা বলেন, নিজস্ব সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও সংস্কৃতি যাদের রয়েছে, তারাই আদিবাসী।

“জোর করে স¤প্রদায়গুলোর ওপর তকমা লাগিয়ে না দিয়ে খোলা মনে আমাদের এ বিষয়গুলো বিচার করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের ঊর্ধ্বতনরা এর আগে বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারীদের বোঝাতে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

“কিন্তু এখন তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইছে না সরকার”- অভিযোগ করেন সুলতানা কামাল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য স্থানে বসবাসকারী আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করে আসছে। তাদের এই দাবি পূরণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইউএনপিএফআইআই-এর অধিবেশনে যোগদানকারী বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে অধিবেশনে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক লার্স আন্দ্রেস বায়ের বলেন, সরকারের সদিচ্ছার অভাবে ওই চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পাবর্ত চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তি মিশনের কোনো দেশের সেনা সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার আগে তাদের মানবাধিকার রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখারও সুপারিশ করেন বায়ের।

প্রতিবেদনে যেসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এবং যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা নিয়ে অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইকবাল আহমেদ। তবে সেনাবাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিকেএস/এএইচ/জেকে/০০৫০ ঘ.