ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, মে ২৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার ওপরই জোর দিলেন ঢাকায় যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত স্টিফেন ইভান্স।

বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় ইভান্স সাংবাদিকদের বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবো না। তবে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন যেন হয়।”

ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েসন অব বাংলাদেশ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

আগামী জুলাই মাসেই বাংলাদেশে নিযুক্ত এই ব্রিটিশ কূটনীতিকের তিন বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই সময়ে অনেক ইতিবাচক উন্নয়ন হয়েছে মন্তব্য করে স্টিফেন ইভান্স বলেন, বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, “২০০৮ সালে অবাদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এরপর গত কয়েক বছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৫ থেকে ৬ শতাংশ। রেখাচিত্রেও সঠিক নির্দেশনায় থাকার বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে।”

অবশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে বলেও মত দেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন স্টিফেন ইভান্স।

তিনি বলেন, “জ্বালানি সঙ্কট, আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা, দুর্বল অবকাঠামো এবং সেইসঙ্গে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

“এছাড়া সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা ও বিবাদেরও মোকাবেলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।”

দুর্নীতি ও তহবিলের অপব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের সামাজিত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ইভান্স।

মানবাধিকার পরিস্থিতি

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এই ব্রিটিশ কূটনীতিক বলেছেন, “কিছু উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়ও আছে, যেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি।”

সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীরা পরিস্থিতির উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলেও অভিমত দেন তিনি।

ইভান্স বলেন, “মানবাধিকার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই ব্রিটিশ সরকার র‌্যাবকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলো।”

খালেদা জিয়া প্রসঙ্গ

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংসদে যোগ দেবে আশা প্রকাশ করে ইভান্স বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর আলোচনার জন্য সংসদই উপযুক্ত স্থান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশ সফর প্রসঙ্গে স্টিফেন ইভান্স বলেন, “তিনি ইংল্যান্ড সফর করেছেন এবং আশা করছি সংসদে যোগ দেওয়ার ইতিবাচক ধারণা নিয়েই তিনি দেশে ফিরবেন।”

“ইংল্যান্ড সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে”, যোগ করেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশন

দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটেনের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, সংস্থাটির স্বাধীনতা বজায় রাখা উচিত।

“দুর্নীতির মূল উৎপাটনে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ জন্য কমিশনকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/এমআই/এএল/জেকে/১৬৫৬ ঘ.