ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মে ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- এইচএম এরশাদ দাবি করেছেন, তাকে আটক রাখার জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিলো।

এরশাদ মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাকে আটক রাখার জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

“এই পদ্ধতি বাতিলের মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা শাহাবুদ্দিন আহমেদের ‘বিচারের সুযোগ এসেছে’ দাবি করে তিনি বলেন, “এরশাদের বিচার হলে কেন শাহাবুদ্দিনের বিচার হবে না। তিনি সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছেন। আমরা তার বিচার করব।”

এরশাদ বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না এলে জনগণ বসে থাকবে না। কারণ দুটি রাজনৈতিক দলের কাছে মানুষ বন্দি হয়ে আছে।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নব-নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে জাতি, দেশ ও রাজনীতিবিদরা কলঙ্কমুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রবল গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোর (তিন জোট) দাবি অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে তিন মাসের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এরশাদ।

এর আগে তার সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমেদ (বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য) পদ ছাড়েন । সেই পদে শাহাবুদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে এরশাদ শাহাবুদ্দিন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

তখন শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৭ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেন। যারা তিন মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে।

পুঁজিবাজার ধস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারি নিয়ে কিছু করুন। অপ্রতিরোধ্য দরবেশদের নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু তাদের শাস্তি হয়নি।”

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ৩৩ লাখ মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। আগামীতে ভোট পেতে চাইলে এসব দরবেশদের শাস্তি দিন। এর মানুষের শত্র”।

সিএনজি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিলো বলে মন্তব্য করেন এরশাদ।

র‌্যাবের গুলিতে পঙ্গু কলেজ ছাত্র লিমনকে নিয়ে নাটক সৃষ্টি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “সরকার চাইলে আমরা লিমনের দায়িত্ব নেব। তাকে পড়াশোনা শেখাব। তবে এর আগে সরকারকে স্বীকার করতে হবে তাদের ভুল হয়ে গেছে।”

তার নিজের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা আছে তা জানা নেই উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, “রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে সরকার প্রতিশ্র”তি দিলেও প্রতিশ্র”তি রাখেনি।

আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের আট হাজার রাজনৈতিক মামলা তুলে নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক শক্তি থাকলে আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাও থাকবে না।”

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, গেন্ডারিয়া থানার সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/পিডি/২১৩৭ ঘ.