ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, মে ২৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পপগুরু আজম খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কোনো আশা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

ক্যান্সারে আক্রান্ত এই শিল্পীকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছে সাত সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্য স্কয়ার হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরী মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চেস্ট রেডিওগ্রাফে দেখা গেছে, তার দুই ফুসফুসের ৭৫ শতাংশেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে।”

তিনি জানান, আজম খানের রক্তচাপ সোমবারই খানিকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ওষুধ ছাড়াই স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন বজায় রয়েছে তার শরীরে। চেতনাও ফিরেছে খানিকটা।

“কিন্তু লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার জন্য এটা যথেষ্ট নয়। এই স্টেজ থেকে ফিরে আসা খুব কঠিন।”

শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ায় গত শুক্রবার আজম খানের অবস্থার অবনতি ঘটে। সে দিন থেকেই স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশে পপ সঙ্গীতের এই অগ্রপথিককে। তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করতে শনিবার গঠন করা হয় সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।

ব্যান্ড দল উচ্চারণ গড়ার মধ্য দিয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে আত্মপ্রকাশকারী আজম খানের মুখগহ্বরের ২০১০ সালে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ জন্য দুবার তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়েও চিকিৎসা করানো হয়।

তবে গত নভেম্বরে সিঙ্গাপুরে শেষ বারের চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করেই আজম খান ফিরে আসেন বলে ডা. কামরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান। তিনি বলেন, এখন তা মুখ থেকে ফুসফুস, যকৃৎ ও হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাচ্ছে না।”

লাইফ সাপোর্টে থাকায় আজম খানকে ক্যান্সারের চিকিৎসা (কেমো থেরাপি) দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্র”য়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্ম নেওয়া মাহবুবুল হক খান সঙ্গীতাঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন আজম খান নামে।

২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এ সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠন করেন ব্যান্ড দল ‘উচ্চারণ’। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার প্রথম কনসার্ট প্রচারিত হয় ১৯৭২ সালে। ১৯৭৪-৭৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’ গেয়ে স্থান করে নেন বাংলার মানুষর হৃদয়ে।

বাংলাদেশে পপ সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা আজম খানের হাত ধরেই। দেশে এ জগতে কিংবদন্তী মনে করা হয় তাকে। আজম খানের কণ্ঠে ‘ওরে সালেকা, ওরো মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী, ‘আসি আসি বলে’ গানগুলো এখনো ফেরে মানুষের মুখে মুখে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এনআইএইচ/জেকে/২০৩৯ ঘ.