ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মে ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

মঙ্গলবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের পর এক প্রেস ব্রিফিঙে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দলের এ অবস্থানের কথা জানান।

সেইসঙ্গে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না আসলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিএনপি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সংবিধান সংশোধন কমিটির সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে আদালতের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার আর সুযোগ নেই।

এর আগে সোমবার সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। কমিটির একাধিক সদস্য সাংবাদিকদের জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার বিষয়ে কোনো সুপারিশ তারা করছেন না।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলে আসছে, আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে তারা তাতে অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে নিজেদের অধীনে নির্বাচন দিয়ে পরের মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করতে চায় বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

সংবাদ ব্রিফিঙে নজরুল ইসলাম বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র ধ্বংস করার একটি মহাপরিকল্পনা। এটি প্রকৃতপক্ষে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার নীল নকশা। জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে। দেশকে রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।”

সরকারের এরকম সিদ্ধান্তের নিন্দাও জানান তিনি।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি ৭ টা ১০ মিনিটে শেষ হয়। ৪০ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলে উচ্চ আদালতের রায় এবং এ সংক্রান্ত সরকারের সিদ্ধান্তসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার সুপারিশ করবে না- এ কথা জানানোর এক দিনের মাথায় দলের স্থ’ায়ী কমিটির সঙ্গে জরুরি এই বৈঠক করলেন খালেদা জিয়া।

এক পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, গণতান্ত্রিক পথে নয়, কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার জন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতেই তারা (আওয়ামী লীগ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা বলতে চাই, আওয়ামী লীগের অধীনে কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

এয়োদশ সংশোধনী নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় সর্ম্পকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “এই রায় সংসদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। এটা জেনেও আদালতের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির একটি সুস্পষ্ট যোগসাজস ছিলো। সরকারের রাজনৈতিক এজেণ্ডা বাস্তবায়নের জন্য উচ্চ আদালত ব্যবহৃত হয়েছে।”

তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হলে দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

প্রেস ব্রিফিঙে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র, যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এইচএ/২১১৬ ঘ.