ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুন ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৫ জুন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে চার দলীয় জোটের দুই শরিক বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার বিকাল ৩টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিঙে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

একই সময়ে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হরতালের ঘোষণা দেন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “আগামী নির্বাচনে সাফল্য লাভ করতে পারবে না নিশ্চিত হয়েই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে কৌশলে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করতে চাছে সরকার। আমরা সরকারের এহেন সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।”

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না রাখার পক্ষে অবস্থানের কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে সরকারি দল। বিএনপির এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে আগামী নির্বাচনে যাবে না তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আদালতের রায়ের পর তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার আর সুযোগ নেই। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষে সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়মেই নির্বাচন হবে।

সরকারি দলের অবস্থান জানার পর মঙ্গলবারই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর চারদলীয় জোট শরিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

ওই বৈঠকের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারের এ সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র ধ্বংস করার একটি মহাপরিকল্পনা। এটি প্রকৃতপক্ষে এক দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার নীল নকশা। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।”

৫ জুন সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং যান চলাচল বন্ধ রেখে হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে অতীতে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন যে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পথে এগুলে বিএনপি কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রহুল কবির রিজভী, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নিরব, স্বে^চ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বন্তব্যে জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর থাকছে না।”

প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে আজহারুল ইসলাম বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যবস্থা সংবিধানে বহাল রাখার ব্যাপারে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।”

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট আবারো ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় মন্তব্য করে ৫ জুন দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য দলের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান আজহারুল ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এআরআর/এমআই/এইচএ/জেকে/১৮১১ ঘ.

=============================================
দৃষ্টি আকর্ষণ:

সকল ব্লগার ও মন্তব্যকারীদের বাংলায় মন্তব্য করার অনুরোধ করা যাচ্ছে।