ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুন ০২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নিরীহ কলেজছাত্র লিমন ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় বিভিন্ন টেলিভিশনে বাসসের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো তদন্ত কমিটি লিমনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হিসেবে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পায়নি। তখন মনে হচ্ছিল এতোদিনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।

“কিন্তু রাতেই দেখলাম বাসসের খবরটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, নিরীহ লিমন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি) ‘আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি : ভূমি ও বন অধিকার’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলার জমাদ্দারহাটে গত ২৩ মার্চ রাতে গুলিতে আহত হন লিমন। আহত হওয়ার কয়েকদিন পর তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়।

লিমনের দাবি, র‌্যাব তাকে ধরে নিয়ে গুলি করেছে।

এ ঘটনায় লিমনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে র‌্যাব।

ছয় র‌্যাবসদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ এপ্রিল একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন লিমনের মা হেনুয়ারা বেগম।

লিমনের আহত হওয়া প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, র‌্যাব সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে গুলি করে।

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেওয়াটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আমরা ইতোমধ্যে যেসব আন্তর্জাতিক দলিলে স্বাক্ষর করেছি নিজের দেশেই সেটির বাস্তবায়ন না হলে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। আর এভাবে পাহাড়ে শান্তি রক্ষা করাও সম্ভব নয়।”

সেইসঙ্গে এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি পরির্র্বতনেরও আহ্বান জানান অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

ব্যক্তিগত, সমবায় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাইরে সামষ্টিক মালিকানার বিষয়টি ‘৭২ এর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি উল্লেখ করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অভিমত দেন যে, আদিবাসীদের জন্য ভূমি ও বনের অধিকার নিশ্চিতে সংবিধানে সামষ্টিক মালিকানার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং তাদের ভূমি ও বনের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রত্যেক ভাষার জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের সাংবিধানিক স্বীকৃতিদানেরও দাবি জানান।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মণ।

মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আরডিসির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএমআর/এইচএ/১৯০৯ ঘ.