ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুন ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- স্বামীর নির্যাতনের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তার চোখ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. আনসারুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ওই শিক্ষিকার দুই চোখের টিস্যু মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

“তার চোখ ভালো করতে এখন আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিদেশের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালের কোনো বিকল্প নেই।”

গত ৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই শিক্ষক ধানমণ্ডি এলাকায় তার বাবার বাড়িতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হন।

ঘটনার পরদিন ওই শিক্ষিকার স্বামী হাসান সাইদকে আসামি করে শিক্ষিকার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন ধানমণ্ডি থানায় একটি মামলা করেন। তবে সাইদ পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৫ জুন সাইদ দরজা বন্ধ করে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে হাতের আঙুল দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্মী ও আশপাশের প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক একেএম মাহবুবুল হক রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে চোখ-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়।

ডা. আনসারুল হক বলেন, তাকে যে কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে তা দেখে মনে হচ্ছে তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কোনো বিবেক সম্পন্ন মানুষের পক্ষে এ ধরনের কাজ করা অসম্ভব।

“এমনকি হাসপাতালে ভর্তির দিন অবস্থা এতোটাই খারাপ ছিলো সেদিন তার চোখ পরীক্ষা করার পর্যায়ে ছিলো না।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মকবুল হোসেন পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ওই শিক্ষক সাত বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। গত অগাস্ট মাসে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডা যান। তারপর দেশে ফিরে আসেন এ বছর ১২ই মে। থিসিস পেপার জমা দেওয়ার জন্য আগামী আগস্ট মাসে আবারো কানাডা যাওয়ার কথা। কিন্তু বিদেশ আর না যাওয়ার জন্য স্বামী তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে স্বামী তার সঙ্গে বেশ কয়েকবার খারাপ আচরণ করেন।

ওই শিক্ষিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ট এমন একজন জানিয়েছেন, তিনি কানাডার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত মাসে তিনি দেশে ফেরেন। তবে প্রথম থেকেই শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে রুমানার দেশের বাইরে যাওয়া মানতে পারছিলেন না স্বামী হাসান সাইদ। এই ক্ষোভ থেকেই স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালান তিনি।

পরিবার-ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি জানান, হাসান সাইদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করা প্রকৌশলী হলেও চাকরি করেননি। এক সময় ব্যবসা শুরু করলেও তিনি এখন বেকার। সাইদের মা-বাবা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী।

দুই পরিবারের সম্পর্কও বেশ হৃদ্যতাপূর্ণ। স্বামী-স্ত্রীর বাবারা দুজন ঘনিষ্ট বন্ধু বলে জানা গেছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক ওই শিক্ষিকাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এর আগে শুক্রবার মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এনআইএইচ/এএল/পিডি/২১২৫ ঘ.