ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুন ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রুমানা মনজুরের বিরুদ্ধে স্বামী হাসান সাইদের তোলা ‘বিয়ে-বহিভূর্ত সম্পর্কের’ দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় তার পরিচিতজনরা।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে রুমানার পরিচিত ২০ জন শিক্ষার্থী এবং এক অধ্যাপক তার স্বামীর দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে পৃথক বিবৃতিতে বলেছেন, রুমানার পক্ষে কারো সঙ্গে প্রতারণা করা সম্ভব নয়।

ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার (ইউবিসি) ভ্যাঙ্কুভার ক্যাম্পাসে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিচ্ছিলেন রুমানা। অক্টোবরে তার থিসিস জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ওই ২০ জনের সঙ্গে সেইন্ট জোন্স কলেজের একই আবাসন চত্বরে বাস করতেন রুমানা।

স্বামীর নির্যাতনের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুমানাকে গত ১৪ জুন চিকিৎসার জন্য ভারত পাঠানো হয়। গত ৫ জুন হাসান সাইদের নির্যাতনে চোখ ও নাকে মারত্মক জখম হন রুমানা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় হওয়া মামলা হওয়ার ১০ দিনের মাথায় গত ১৫ জুন সাইদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ওইদিন হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানি যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখতে তাকে অনুরোধ করি। গত ৫ জুন রুমনা ফেইসবুক খুলে বাথরুমে গেলে তার ফেইসবুকের বন্ধুতালিকা থেকে ইরানি ওই যুবকটির নাম মুছে ফেলি। বাথরুম থেকে ফিরে এসে এ কারণে সে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এক ই-মেইলে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের এমিরেটাস প্রফেসর ও সেন্ট জোন্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. ওল্যাভ স্লেমেকার বলেন, “কানাডায় রুমানার আসার পর থেকে আমরা যারা তার সঙ্গে ছিলাম, তারা সবাই এই অভিযোগের ঘোর আপত্তি জানাচ্ছি।”

ওই ২০ জন রুমানাকে মূল্যায়ন করেছেন একজন সহানুভূতিশীল, বুদ্ধিমতি ও নিষ্ঠাবান মুসলমান হিসেবে, যিনি পরিবারের প্রতি ছিলেন নিবেদিত।

ড. স্লেমেকার বলেন, জুনিয়র ফেলো, পোস্ট ডক্টরাল ও ভিজিটিং স্কলারসহ তারা মোট ২০ জন একই সঙ্গে থাকতেন। তাদের প্রত্যেকের জন্যই ব্যক্তিগত বাথরুমসহ শয়নকক্ষ বরাদ্দ ছিলো।

“যোগ্যতার বিচারে প্রত্যেকেই বিশেষায়িত গবেষণা কর্মে যুক্ত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, মিউজিয়ামেও তাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই পরিপক্ক, স্বতন্ত্র- এ বিষয়ে আমার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।”

পৃথক বিবৃতি

ইউবিসিতে আইন বিষয়ে পিএইচডিরত ইরানি ছাত্র মোহসেন সেদ্দিগ বলেন, “আমি তাকে একজন বন্ধু ও ফেলো হিসেবেই চিনি। এখানে কোনো পুরুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিলো- এমনটি তার কোনো ব্যবহারে প্রকাশ পায়নি। বরং তার ব্যবহারে পুরুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার স্বাভাবিক বন্ধুত্বের পরিচয় পাওয়া গেছে।”

“এ কারণে আমার মনে হয়েছে তিনি ছিলেন পরিবারকেন্দ্রিক ও ধর্মপ্রাণ নারী।”

কানাডিয়ান অ্যাম্বার পেরেক্কা বলেন, “কানাডায় বসবাসকালে তাকে কোনো ধরনের ব্যাভিচারমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখিনি।”

তুরস্কের ইলসেন সিনে বলেন, “ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি শুধু মাথাই ঢেকে রাখতেন তা না, সবসময় মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গেই তিনি থাকতেন।”

বেলজিয়ামের বিক জোহানা ম্যাগডেলেন প্রিমাভেরা বলেন, “আমি ও রুমানা প্রায়ই একসঙ্গে সময় কাটাতাম। সকালের নাস্তা ও রাতের খাবারের পাশাপাশি মাঝে মাঝে দুপুরের খাবরও একসঙ্গে খেতাম আমরা।

“রুমানা মনজুরের স্বামী বিশ্বাসভঙ্গের যে অভিযোগ এনেছেন এর পুরোটাই যে বানোয়াট সে ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।”

ভারতের পার্ল সিগানপোরিয়া বলেন, “এখানে থাকাকালীন রুমানা মনজুরের সঙ্গে কারো যে বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিলো না সে ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত।”

ইকুয়েডরের ইসাবেল অ্যান্ড্রাডে বলেন, “রুমানার অন্যতম ঘনিষ্টজন হিসেবে আমি মনে করি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট। কলেজে থাকাকালীন তার দায়িত্ববোধ ছিলো শিক্ষণীয়।”

নরওয়ের আলেক্সান্দ্রে বাওয়ের ওয়েস্টবিয়ে বলেন, “আমি প্রমাণ করতে পারবো, তার বিরুদ্ধে স্বামী যে অভিযোগ এনেছেন এর পুরোটাই মিথ্যে এবং এটি রুমানার সুখ্যাতি নষ্ট করার অপচেষ্টা মাত্র।”

এর বাইরে কানাডার ড. এলিনা সার্কোভিক ও চেং চেন, সিঙ্গাপুরের নিকোলা অং, ইরানের নিমা তাহেরিনেজাদ, ভারতের জিয়াউল হাসান ও অভিজিত পান্ধারি এবং তুরস্কের চলান এরেঙ্গিজিংও প্রায় একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএএম/এএল/পিডি/১৮৪৫ ঘ.