ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুন ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গ্যাসকূপে বিস্ফোরণের পর ক্ষতিপূরণ এড়াতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করায় নাইকোকে প্রায় কোটি ডলার জরিমানা করেছে কানাডার একটি আদালত।

শুক্রবার কানাডার ক্যালগারির আদালত এ সাজা দেয় বলে কানাডার বিভিন্ন সংবাদপত্রে খবর প্রকাশ হয়েছে।

রায়ে নাইকোকে ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে দিতে হবে নাইকোকে। রায় অনুযায়ী, জরিমানার ১৫ শতাংশ অর্থ পাবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ।

রায়দানকারী বিচারক স্কট ব্র”কার বলেছেন, ঘুষের এ বিষয়টি কোম্পানির অংশীদারদের জন্য যেমন অবমাননাকর, তেমনি কানাডাবাসীর জন্য বিব্রতকর।

রায়ের পর কানাডাভিত্তিক কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এড স্যাম্পসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “তখন যা হয়েছিলো (ঘুষ দেওয়া), তা ভুল হয়েছিলো। আমরা তা স্বীকার করছি।”

আদালতে নাইকো স্বীকার করেছে, ২০০৫ সালের মে মাসে মোশাররফকে প্রায় ২ লাখ ডলার দামের একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুইজার উপঢৌকন দেয় তারা। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ বাবদ ৫ হাজার ডলার দেওয়া হয় তাকে। ওই সময় ক্যালগারিতে এক জ্বালানি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন মোশাররফ। ওই সময় লেনদেন হয়।

২০০৫ এর জানুয়ারিতে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই বছরের ১৮ জুন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়েছিলেন মোশাররফ।

রায়ে আদালত আরো বলেছে, বিদেশি সরকারকে ঘুষ দেওয়ার এ ঘটনা কানাডার জ্বালানি রাজধানী বলে খ্যাত ক্যালগারির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।

ঘুষের ওই ঘটনা নিয়ে ঢাকায় তখনকার কানাডার রাষ্ট্রদূত ডেভিড ¯প্রাউল নাইকো বাংলাদেশের ওই সময়কার প্রেসিডেন্ট কাশিম শরিফের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

কানাডিয়ান প্রেস জানায়, তখন কাশিম রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন- ‘এ ধরনের উপহার দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে (গ্যাসকূপে বিস্ফোরণ) তা দেওয়া হয়ে থাকে।’

ওই ঘটনার পর ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে কাশিমকেও তার পদ ছাড়তে হয়েছিলো।

শুধু জরিমানাই নয়, নাইকোর কর্মকাণ্ড আগামী তিন বছর পর্যবেক্ষণে রাখবে আদালত, যা মেনে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি স্টিভেন জনস্টোন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও একইসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, পুঁজিবাজারে যেখানে নাইকোর ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে, সেখানে ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা বেশি কিছু নয়।

“তবে এর মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ী মহলে একটা বার্তা পৌঁছানো যাচ্ছে যে আইন কাউকে ছাড় দেবে না”, বলেন তিনি।

এদিকে নাইকোর আইনজীবী ক্রিস্টিন রবিডুয়াক্স রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, এ সাজা প্রতিষ্ঠানটির ওপর একটি বড় ধরনের আঘাত।

আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কানাডার প্রেসিডেন্ট জেমস কটজ সাংবাদিকদের বলেন, “অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে, এমন ধারণা এখন আর কোম্পানিগুলো করতে পারবে না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এমআই/১২২০ ঘ.