ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুন ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সংবিধান সংশোধনের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, এর মাধ্যমে দেশে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠলো।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সব সম্ভাবনা তিরোহিত হলো। এই অপচেষ্টায় দেশে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠলো।

“গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেল।”

বিকেলে গুলশানে তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন সংসদে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সংবিধান সংশোধন নিয়ে দলটির অবস্থান জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

সকাল ১১টার দিকে সব সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। বিভক্তি ভোটে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন বিল পাস হয় দুপুরে। এ সময় বিরোধী দল সংসদে ছিলো না।

গত বছরের ২১ জুলাই সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ মতবিনিময়ের পর গত ৮ জুন কমিটি প্রতিবেদন আকারে সুপারিশগুলো সংসদে উপস্থাপন করে। এ সময় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংসদে ছিলো না।

২০ জুন তা বিল আকারে উপস্থাপনের জন্য অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলোপ করে ২৫ জুন সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেশের জন্য স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিন বৈঠক করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে বুধবার তা সংসদে পেশ করা হয়।

বিএনপি সংবিধান সংশোধনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। বুধবারও দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করছে।

‘সংবিধান এখন আ. লীগের ইশতেহার’

খালেদা জিয়া বলেছেন, সংশোধনের পর সংবিধান আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে খালেদা বলেন, দেশবাসী ও বিএনপির প্রতিবাদের মূল্য না দিয়ে তারা সেই [সংবিধান সংশোধন] ঘৃণ্য কাজটি করলেন।

“তারা ১৯৭৪ সালে মাত্র ১৩ মিনিটে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে বাকশাল কায়েম করে।”

“তারা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার মূল্য দিলেন না।’

খালেদা বলেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচন ক্ষমতায় থেকে করার অসদুদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হলো।

“এর মাধ্যমে তথাকথিত অন্তবর্তী সরকার নামে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে হীন উদ্যোগ নেওয়া হলো তাতে দেশবাসী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

“আমরা সরকারকে সতর্ক করছি, জনগণের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তাদের আশা-আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এভাবে সংবিধান বদলের পরিণাম শুভ হবে না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/পিডি/১৮৫৭ ঘ.