ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুলাই ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ছাত্রী নিপীড়ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক পরিমল জয়ধর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পাঁচ দিনের হেফাজত (রিমান্ড) শেষ হওয়ার একদিন আগে সোমবার দুপুরে ভিকারুন্নিসা স্কুলের দশম শ্রেলীর এক ছাত্রী ধর্ষণনর মামলায় পরিমলকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আনা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার ওসি তদন্ত এস এম শাহাদত হোসেন তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন জানান।

মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তার খাসকামরায় জবানবন্দি নেন।

জবানবন্দি শেষে তাকে করাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সালোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পরিমল ঘটনা স্বীকার করে এই জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ৭ জুলাই পরিমলকে এ মামলার ঘটনা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন হেফাজত চায় পুলিশ। আদালত পাঁচ দিন হেফাজত মঞ্জুর করে।

মামলার নথিতে ঘটনার বিবরণ

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার পাশে ‘এফ’ ব্লকে ৬ নম্বর রোডের ৩৫৯ নম্বর বাসায় একতলা ভবনের একটি কক্ষে ওই স্কুলের ১০ম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে হাত বেঁধে, মুখে ওড়না গুঁজে ধর্ষণ করেন পরিমল।

সেসময় পরিমল তার মোবাইল ফোনে ছবি তোলে বলেও মামলায় বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ঘটনার পর ছাত্রীটির হাতের বাঁধন খুলে কাউকে এ বিষয়ে কিছু বললে ইন্টারনেটে নির্যাতনের ছবি ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে পরিমল। পরে ১৭ জুন পরিমলের কাছে পড়তে গেলে আবারো তিনি ছাত্রীটিকে নির্যাতন করেন। সেদিন ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে পরিমল তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।

গত ২১ জুন বিষয়টি বসুন্ধরা ভিকারুন্নিসা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে খুলে বলা হলে তিনি ভেবে দেখবেন বলে আশ্বাস দেয়। পরদিন পরিমল স্কুলে এলে শাখা প্রধানকে বিষয়টি আবারো বলা হয়।

গত ২৩ জুন স্কুলে অভিভাবকদের সভা হয়। ওই সভায় ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৮ জুন পরিমলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শাখা প্রধানের কাছে ১০ম শ্রেণীর সব ছাত্রীর স্বাক্ষর করা আবেদন জমা দেওয়া হয়। সেদিনও ওই শাখা প্রধান বলেন, ঘটনাটি অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আমার নীতি নির্ধারণী কোন ক্ষমতা নেই। পুরো বিষয়টিই অধ্যক্ষ ‘ডিল’ করেন।

গত ৫ জুলাই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে বাড্ডা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০ ধারায় পরিমল জয়ধর, অধ্যক্ষ হোসনে আরা এবং বসুন্ধরা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পরিমলকে ৭ জুলাই ভোররাতে কেরানিগঞ্জের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ার লাটেংগা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম ক্ষিতিশ জয়ধর। তিনি গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/পিডি/১৭৪৯ ঘ.