ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

অসলো, জুলাই ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- নরওয়ের রাজধানী অসলোয় জোড়া হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ জনে।

পুলিশের পোশাক পরিহিত বন্দুকধারীর গুলিবর্ষনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৯১। গুলিবর্ষনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গেছে ৭ জন। মৃত মোট ৯১ জনের মধ্যে এই ৭ জনও রয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টোলটেনবার্গ এক সাংবাদিক সম্মেলনে দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “একটি স্বর্গের মতো একটি দ্বীপ নরকে পরিণত হলো”।

স্টোলটেনবাগ আরো বলেন, “এ ঘটনা কেন ঘটেছে সে সম্পর্কে আমি অনুমাননির্ভর কিছু বলতে চাই না। কিংবা অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করে ডানপন্থীদের সাথে নরওয়েতে বিশাল সমস্যা চলছে এ দাবিও করবো না। কিন্তু কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী এখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা অতীতে তাদের পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আমাদের পুলিশ তাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছে।”

এর আগে দেশটির পুলিশ প্রধান ওয়েস্টিন মায়েল্যান্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বন্দুকধারীর গুলিবর্ষনের ঘটনায় ৮০ জন মারা গেছেন। এ সংখ্যা আর বাড়বে না, এ ধরনের কোনো নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না।”

পুলিশ জানিয়েছে ৩২ বছর বয়স্ক এক নরওয়েজিয়ান উটোইয়া দ্বীপে এক যুব সমাবেশে এক নাগাড়ে গুলি চালিয়ে এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে। নরওয়ের টেলিভিশন টিভি-২ জানিয়েছে, বন্দুকধারী যুবকের সাথে ডান চরমপন্থীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

২০০৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদে ট্রেনে বোমা হামলায় ১৯১ জন নিহত হওয়ার পর এটিই পশ্চিম ইউরোপে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ হামলা।

উটোইয়া দ্বীপের কয়েকশ’ মিটার দূরে টাইরিফজোর্ড লেক থেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৪২ বছর বয়স্ক আনিতা লিয়েন বলেন, “আমি দেখলাম লোকজন পানিতে লাফিয়ে পড়ছে, কমপক্ষে ৫০ জন মানুষ সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। লোকজন ভয়ে চিৎকার করে কাঁদছিল।”

“তারা বয়সে খুবই তরুণ। ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী হবে”, বলেন লিয়েন।

পুলিশ ওই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অসলোয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তার সংযোগ থাকতে পারে।

নরওয়ের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানী অসলোয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে এক বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।
ওই বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ নিরাপদে আছেন। নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী অসলো শহরে অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে অসলো পুলিশের উপ-প্রধান সভেইনুং স্পোনহেইম জানান, অসলোর ৮০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমের উটোইয়া দ্বীপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সংগঠনের সম্মেলনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে নয় বা দশজন নিহত হয়েছে।

এর আগে নরওয়ের দৈনিক ভিজি জানায়, উটোইয়া দ্বীপে পুলিশের পোশাক পরে এক ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

বিস্ফোরণের পর প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ নরওয়ের টিভি-২ টেলিভিশনকে টেলিফোনে বলেন, মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্য অক্ষত আছেন। তবে পরিস্থিতি ‘খুব গুরুতর’।

তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুতি ছিল। তবে যেভাবে এটা ঘটলো- তা খুবই নাটকীয়।”

প্রধানমন্ত্রী কোথা থেকে টেলিফোনে কথা বলেছেন- তা প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেছে পুলিশ।

বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রীর ১৭ তলা কার্যালয় ভবনসহ আশেপাশে তেল মন্ত্রণালয় এবং আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয় ভবনের বেশির ভাগ জানালা উড়ে যায়। দেখা যায় ধোঁয়ার কু-ুলি। তেল মন্ত্রণালয়ে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

পুলিশের ধারণা, গাড়িবোমার মাধ্যমে এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পরে।

পুলিশ কর্মকর্তা সভেইনুং স্পোনহেইম বলেন, “এটা বোমা বিস্ফোরণ।”

আরেক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা থোর ল্যাংলি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “এটা গাড়িবোমা হামলা হতে পারে।”

অসলো শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আরো বিস্ফোরণের আশঙ্কায় ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদেশ নরওয়েতে এর আগে কখনো এ ধরনের হামলা হয়নি। তবে আফগানিস্তান যুদ্ধে জড়িত থাকায় কখনো কখনো আল-কায়েদার হুমকির মুখে পড়েছে শান্তিতে নোবেল প্রদানকারী স্ক্যান্ডিনেভীয় এ দেশটি।

লিবিয়ায় ন্যাটো অভিযানেও নরওয়ে অংশ নিচ্ছে। এর জবাবে ইউরোপে পাল্টা হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছিলেন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি।

আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও নরওয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে আটকের এক বছরের মাথায় সেখানে এ হামলা হলো।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলকিউ/এএইচ/জেকে/সিআর/০৯৩৩ ঘ.