ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জুলাই ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দক্ষিণ এশিয়ায় অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সোমবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে এ অঞ্চলের প্রথম অটিজম সম্মেলন।

আয়োজকদের পাশাপাশি অটিজম বিশেষজ্ঞ ও অটিস্টিক শিশুদের অভিভাবকদের আশা, এই সম্মেলনের পর অটিজম নিয়ে মানুষের ভুল ধারণাগুলো ধীরে ধীরে কেটে যাবে। অটিস্টিক শিশুদের আলাদা করে না রেখে তাদের নিয়েই এগিয়ে যাবে সমাজ।

সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে অটিজম সচেতনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সে দেশের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ছাড়াও পাকিস্তান পার্লামেন্টের স্পিকার ফাহমিদা মির্জা, শ্রীলংকার ফার্স্ট লেডি শিরস্থি রাজাপাকাসে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ইহাম হুসেন এবং মধ্যপ্রাচ্য, জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অটিজম স্পিকস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করেছে এই সম্মেলনের। এ উপলক্ষে ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

সম্মেলনের কথা জানার পর এতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন নয় বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুর মা মাকসুদা আক্তার। কিন্তু দেরি করে ফেলায় নিবন্ধনের সুযোগ হয়নি তার।

বিএসএমএমইউর নিউরো ডেভেলপমেন্ট এন্ড অটিজম সেন্টারের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, এ সম্মেলন মানুষকে জাগাতে পারবে। তারা আমারে ছেলের সঙ্গে আরো একটু ভালো আচরণ করবে।”

এই সম্মেলনে যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এসেছেন তাবাস্সুম জারিন। চট্টগ্রামে অটিস্টিক শিশুদের জন্য একটি স্কুল চালান তিনি।

রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জারিন বলেন, “অটিজম সচেতনতায় এই সম্মেলন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস। অটিস্টিক শিশুদের যতœ নেওয়ার বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও কৌশলগুলো আমরা জানতে পারব এই সম্মেলনে।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরো ডেভেলপমেন্ট এন্ড অটিজম সেন্টারের সমন্বয়কারী ডা. শাহীন আখতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে এই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি ‘প্ল্যাটফর্ম’ গঠন করা হবে।

“সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন দেশের অটিস্টিক শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সবগুলো বিষয় একত্র করে দেখা হবে- কীভবে এর সমাধান করা যায়। আমার বিশ্বাস, ‘দক্ষিণ এশীয় অটিজম নেটওয়ার্ক’ সচেতনতা তৈরি, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অঞ্চলের অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”

সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুল দীর্ঘদিন ধরে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লাইসেন্সধারী এই ‘স্কুল সাইকোলজিস্ট’ এর আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ অঞ্চলে অটিজম নিয়ে এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আমরা অটিজম সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে চাই। এ অঞ্চলের অটিস্টিক শিশুরা অত্যন্ত অবহেলিত। তাদের সুস্থ্য-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত জানান, বিভিন্ন দেশের ৩১ জন বিশেষজ্ঞসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি এই সম্মেলনের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন।

মূল সম্মেলনের পর ২৭ থেকে ২৯ জুলাই অভিভাবক, চিকিৎসক আর স্কুল শিক্ষকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মশালা হবে। অটিজমের লক্ষণ ও কীভাবে অটিস্টিক শিশুদের যতœ নিতে হয়- সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হবে এই কর্মশালায়।

শৈশবের কোনো পর্যায়ে বুদ্ধিমত্তার স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় অটিজম। এ ধরনের শিশুদের মস্তিষ্কের গঠন হয় অন্যদের চেয়ে আলাদা। ফলে তারা অন্যদের মতো করে নিজের যতœ নেওয়া শেখে না। নিজে নিজে কাপড় পরা, একা একা খাওয়া বা টয়লেট করা কিংবা অন্যদের কাছে নিজের প্রয়োজন বা ইচ্ছার কথা প্রকাশ করা শিখতেও তাদের সমস্যা হয়।

অটিজমে ভোগা শিশুর সংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশে কোনো সরকারি হিসাব নেই। তবে একটি বেসরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে ২৫০ জন অটিস্টিক শিশু।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এনআইএইচ/জেকে/০২১১ ঘ.