ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুলাই ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে স্বাধীনতা সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রয়াত ইন্দিরার পক্ষে তার পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের হাত থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম আবদুল আজিজ সম্মাননাপত্র পাঠ করেন।

ইন্দিরার জন্ম ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং কমলা নেহেরুর একমাত্র সন্তান ইন্দিরা ১৯৬৬ সালে ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ১৯৮০ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দিল্লির জনপথ রোডের প্রধানমন্ত্রী ভবনে শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে প্রাণ হারান ইন্দিরা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরু করার পর এ ভূখণ্ডের লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিলো ভারত। সমর ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়েছিলো বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে।

বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের স্বীকৃতি আদায়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অনেক দেশও সফর করেন তিনি। যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশ গড়ার কাজেও ইন্দিরার সহযোগিতা পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এ বছরের ৭ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাধীনতার ৪০তমবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখায় ইন্দিরা গান্ধীসহ বিভিন্ন দেশের ৪৫ জন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি সংগঠনকে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বাংলাদেশ সরকার বিদেশি নাগরিকদের তিন ধরনের সম্মাননা দিয়ে থাকে। সেগুলো হলো- স্বাধীনতা সম্মাননা, মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা এবং মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা। এর মধ্যে স্বাধীনতা সম্মাননাই সবচেয়ে মর্যাদার, যা ইন্দিরা পেলেন।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, “এ ধরনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্তআনন্দিত।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তখনকার ভারত সরকারের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত শুধু আমাদের শরণার্থীদেরই আশ্রয় দেয়নি, আমাদের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানসিকভাবেও সমর্থন দিয়েছিলো।”

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর যেসব সদস্য জীবন দিয়েছেন তাদের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলেন। আমরা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবো।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দিনগুলোতে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সোনিয়া আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।

দক্ষিণ এশীয় অটিজম সম্মেলনে যোগ দিতে ২৪ ঘণ্টার সফরে রোববার রাতে বাংলাদেশে পৌঁছান সোনিয়া গান্ধী।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। সোয়া ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান।

সোনিয়া গান্ধী প্রধান অতিথি হিসেবে অটিজম সম্মেলনে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/পিডি/জেকে/১৯২৯ ঘ.