ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অগাস্ট ১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তিন দফা চিঠি দিয়েও বিএনপিকে সংলাপে রাজি করাতে না পেরে এবার দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে টেলিফোন করে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছেন একজন নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করে আলাপ করেছি। ইসির পক্ষ থেকে বিএনপিকে আবারো আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

তিনি জানান, গত সপ্তাহে এই টেলি যোগাযোগ হলেও সোমবার পর্যন্ত কোনো জবাব আসেনি বিরোধীদলের পক্ষ থেকে।

“এখনো কিছু জানায়নি তারা। আমরা আশা করি, বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি আমাদের সঙ্গে আলাপ করে জানাবেন। তবে না এলে তো করার কিছু নেই।”

৭ অগাস্ট ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এই সময়ের মধ্যে যে কোনো দিন বিরোধী দলও বসতে পারে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।

গত ২৪ জুলাই বিএনপির সমমনা দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বিরোধী দলকেও ইসির সংলাপে আনার উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানালে এম সাখাওয়াত হোসেন ব্যক্তিগতভাবে ফখরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বিরোধীদলকে সংলাপে রাজি করাতে চিঠি চালাচালির বাইরে ইসিকে ‘আনসিন’ যোগাযোগ রক্ষার পরামর্শ দেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। তিনি বলেন, “ইসি চাইলে আনসিন কোনো উদ্যোগ নিতে পারে।”

ওই দিন নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াতকে উদ্দেশ্য করে দলটির সভাপতি জানান, ইসির সংলাপে বিরোধী দলেরও সমর্থন রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতসীন দলের অবস্থানের কারণে বিরোধী পক্ষের বিরোধীতা স্বাভাবিক। জাগপার পক্ষ থেকে বিএনপিকে সংলাপে আসতে রাজি করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই দিনে সংলাপে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে বিরোধী দলসহ সবার আস্থা অর্জনের তাগিদ দেন।

নির্বাচনী আইন সংস্কারসহ কয়েকটি বিষয়ে গত ৭ জুন থেকে নিবন্ধিত দলগুলোর মতামত নেওয়া শুরু করে ইসি।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ১৩ জুন, ১৯ থেকে ২২ জুন ও ২০ জুলাই তিন দফায় সংলাপের সময় দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় ইসি। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবারই বর্তমান ইসিকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যায়িত করে সংলাপে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করা হয়।

৩৮টি নিবন্ধিত দলের অধিকাংশই ইসির এই সংলাপে অংশ নিলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) বিএনপির পথ অনুসরণ করে।

‘৬ দলকে কারণ দর্শাতে বলা হবে’

বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসিকে কিছু না জানানোয় ছয়টি দলকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এম সাখাওয়াত।

দলগুলো হলো- বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), বিকল্পধারা বাংলাদেশ, গণফ্রন্ট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।

এছাড়া আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন জমা দিতে বিএনপিসহ ১১টি দলের আবেদনের বিষয়টি ইসি বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বার্ষিক আয়-ব্যায়ের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১০ সালের বার্ষিক ‘অডির্ট রিপোর্ট’ নির্ধারিত সময়ে জমা দিয়েছে ২১টি দল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/জেকে/১৭১১ ঘ.