ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

চট্টগ্রাম, অগাস্ট ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অস্ত্র মামলার শুনানিতে এজলাসে এসে আদালতের অনুমতি ছাড়াই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী।

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার অন্য ১০ আসামিও আলাপ চালিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

সোমবার সকালে এ মামলার শুনানির নির্ধারিত দিনে মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১১ আসামিকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় হাজিরার জন্য নিজামী ও বাবরকে আগেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

শুনানি শেষে আগামী ৮ অগাস্ট পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক গোলাম সারোয়ার।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল গভীর রাতে সিইউএফএল জেটিঘাটে ১০ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করা হয়। ওই ঘটনায় কর্ণফুলী থানা পুলিশ বাদি হয়ে অস্ত্র ও চোরাচালান আইনে মামলা দুটি করে।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে সিআইডির সিনিয়র এএসপি মনিরুজ্জামান চৌধুরী প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্ত শেষে গত ২৬ জুন অস্ত্র ও চোরাচালান মামলার পৃথক সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

নতুন ১১ জনের নাম যোগ হওয়ায় অস্ত্র মামলায় আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জন। আর চোরাচালান মামলায় আসামি ৫২ জন।

আসামিদের সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য

সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আসামিরা এজলাসে প্রবেশের সময় আসামিদের সঙ্গেই ছিলেন জামায়াত ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। সাড়ে ১১টায় শুনানি শুরু হওয়ার আগে তাদের পেছনের দিকে তিনটি বড় বেঞ্চে বসানো হয়। বেলা ১২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত চলে শুনানি।

শুনানি চলার সময় দেখা গেছে, নগর জামায়াতের আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী নিজামীর পিছনে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় জামায়াত সমর্থক আইনজীবীদেরও নিজামীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে।

অবশ্য নিজামীর পাশে বসা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর নিজের আইনজীবী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে কথা বলেননি।

নিজামী-বাবর ছাড়া সম্পূরক অভিযোগপত্রে নতুন আসামিরা হলেন- জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআইর সাবেক দুই প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, সাবেক পরিচালক (নিরাপত্তা) উইং কমান্ডার (অব.) শাহাবউদ্দিন আহমদ, উপ-পরিচালক (কারিগরি) মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন ও মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসীন উদ্দিন তালুকদার ও জেনারেল ম্যানেজার (প্রসাশন) কে এম এনামুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব মো. নুরুল আমিন ও উলফানেতা পরেশ বড়ুয়া।

আকবরের ফোনালাপ

শুনানি চলাকালে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান। শুরু থেকেই তিনি পরিচিত এক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে আইনজীবীর দেওয়া মোবাইল ফোন থেকে কথাও বলেন তিনি। অবশ্য মিনিট খানেক কথা বলার পর এক পুলিশ সদস্য মোবাইলটি কেড়ে নেন।

আরেক আসামি উপ-পরিচালক (কারিগরি) মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেনের সঙ্গে বিচার কক্ষে দেখা করেন তার স্ত্রী। এ ছাড়া অস্ত্র চোরাচালানের কাজে শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ও হাফিজউদ্দিন পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করেন।

বিচারকক্ষে জামায়াত নেতা-কর্মী

আসামিদের বিচার কক্ষে নিয়ে আসা হলে প্রায় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী ও কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী একযোগে বিচার কক্ষে ঢুকে পড়েন। তারা নিজামী-বাবরকে চেয়ার দেওয়ার দাবিতে চিৎকার শুরু করেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেওয়ার সময় হট্টগোল শুরু করেন আসামিদের আইনজীবীরা।

পিপি কামাল উদ্দিন বলেন, “এজলাসে আইনজীবী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে হলে আদালতের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। আসামিপক্ষ অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেনি। আদালতে কারা প্রবেশ করতে পারবেন- সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে।”

জামায়াত ইসলামীর দু’জন নেতা বিচারকক্ষে প্রবেশ ও আসামির মোবাইল ফোনে কথা বলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন আদালতের নির্দেশনা যথাযথ ভাবে পালন করতে পারেনি। এর জন্য তারাই দায়ী।

‘মঈন উ আহমেদকে এক নম্বর আসামি করা দরকার ছিল’

এ মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদকে এক নম্বর আসামি করা দরকার ছিল বলে শুনানিতে মন্তব্য করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদ।

তারিক আহমেদ বলেন, “ঘটনার সময় মঈন উ আহমেদ চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন। মামলায় এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের লোকদের আসামি করা হয়েছে। সে সময় এসব সংস্থা তার নিয়ন্ত্রণে ছিলো। গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের আসামি করা হলে মঈন উ আহমেদকে এক নম্বর আসামি করা উচিত ছিল।”

প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তৎপর ছিলেন বলেই ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এ মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখন আসামিপক্ষ যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা আইনসম্মত নয়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/সিএম/এএল/পিডি/২৩১৪ ঘ.