ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

শেখ শাহরিয়ার জামান

ঢাকা, অগাস্ট ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সম্পর্কিত প্রতিবেদনটিকে ‘ভিত্তিহীন এবং মিথ্যাপূর্ণ’ মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বুধবার বলেন, “আগামীকাল আমরা প্রতিবাদ পাঠাতে পারি।

“দ্য ইকোনমিস্টের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রকাশনার জন্য প্রতিবেদনটি লজ্জাজনক।”

ইকোনমিস্টের সর্বশেষ সংখ্যায় ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ: এম্ব্রেসেবল ইউ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে ভারত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি [দ্য ইকোনমিস্ট] বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এবং ২০০৮ সালের নিরপেক্ষ এবং নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনকে খাটো করেছে।’

“বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা সূক্ষ্ম প্রচারণা চলছে বলে মনে হচ্ছে। কোনো মহল এর পেছনে থাকতে পারে।”

< ন> ‘জনগণও জানে তারাই নির্বাচিত করেছে’

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলায় থাকা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকতার দিকে উল্লেখযোগ্য মোড় নিয়েছে- যারা বাইরে আছে তাদের এটি খুব একটা চোখে পড়ছে না।

‘ভারতীয় অর্থ এবং পরামর্শে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ফুটতে শুরু করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এরা ভারত-বাংলাদেশের যে সুসম্পর্ক তৈরি হচ্ছে সেটাকে কটাক্ষ করছে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কোনো দেশের কাছ থেকে অর্থ বা পরামর্শ পেয়ে যে সরকার নির্বাচিত হয়নি তা জনগণ জানে। বরং জনগণই সরকার গঠনের জন্য [আমাদের] নির্বাচিত করেছিলো।”

তাই বাংলাদেশের জনগণও এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করবে- বলেন দীপু মনি।

“একটি গোষ্ঠী ১৯৭১, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড এবং ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের রক্ষার চেষ্টা করছে। যারা সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে তাদেরও রক্ষার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি।”

পত্রিকাটি ‘তাদের’ মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে- মন্তব্য করে দীপু মনি বলেন, “এটি বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।”

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে দ্য ইকোনমিস্ট সূক্ষ্ম আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালাচ্ছে।

সা¤প্রতিক আরেকটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওরা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতা করেছিলো।

“ওরা বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব এবং [২০০৮ সালের] স্বচ্ছ ও স্বাধীন নির্বাচন নিয়েও বাজে মন্তব্য করেছিলো।”

“সবকিছু মেলালে মনে হয় ওরা বাংলাদেশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক মহলের সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান দীপু মনি।

“জাতির যে দাবি, ৪০ বছর পর সেই দাবি পূরণের কাজটি আজ হচ্ছে।”

১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গত বছরের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল ও তদন্ত দল গঠন করে সরকার।

‘পুরো জাতির অপমান’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জাতি ইতিহাসের স্বচ্ছতম ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে [২০০৮ সালে] ভোট দিয়ে এ সরকারকে নির্বাচন করেছে।

“সেই নির্বাচনকে তারা যেভাবে বলেছে তাতে এ জাতিকেই অপমান করা হয়; এবং এ জাতির ওপর দোষারোপ দেওয়া হয়।”

“ইকোনমিস্টের একটি পত্রিকা একটি দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে তা মেনে নেয়া যায় না,” বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সূক্ষ্ম প্রচারণায় কোনো বিশেষ মহল জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি তিনি।

ট্রানজিট

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনটির লেখকের ট্রানজিট বিষয়ক জ্ঞানের অভাবের কথাও বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

“প্রতিবেদনটি যিনি লিখেছেন ট্রানজিট সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনীর লোকজনসহ ঢাকার অনেকেই সন্দেহ করে এটি [ট্রানজিট] ভারতের জন্য একটি নিরাপত্তা করিডোর তৈরির জন্যই [হচ্ছে]।’

দীপু মনি বলেন, “ট্রানজিট দেওয়ার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই দেওয়া হবে।”

যখন কোনো ট্রানজিট চুক্তি ছিলো না তখন ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছিলো বলে স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী।

“এখন যারা নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলছে তারা আসলে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামিদের রক্ষা করতে চাইছে।”

দুর্নীতি

সেনা সমর্থিত (২০০৭-০৮) তত্ত্বাবধায়ক সরকারও শেখ হাসিনার কোনো দুর্নীতি খুঁজে পায়নি বলে উল্লেখ করেন দীপু মনি।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়ে, ‘…তখন তার [শেখ হাসিনা] জায়গায় আসবেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া। জিয়া পরিবারও দুর্নীতিগ্রস্ত; এ পরিবার ভারতের ততটাই বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যতোটা তার পক্ষে।’

প্রতিবেদনে ‘জিয়া পরিবারও দুর্নীতিগ্রস্ত’ উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার পরিবারও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে ইঙ্গিত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে দীপু মনি বলেন, “একজনের [খালেদা জিয়া] সন্তানেরা জনগণের পয়সায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে শিক্ষিত হয়নি। একেবারে ন্যূনতম সনদটিও পায়নি।”

“জিয়া পরিবারের দুই ছেলে সব ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত,” উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, “তা যে শুধু দেশের পত্রপত্রিকায় এসেছে তাই নয়। আন্তর্জাতিকভাবেও তা প্রমাণিত হয়েছে। দেশেও প্রমাণিত এবং দণ্ডিত হয়েছে।”

“আদালত অর্থপাচার মামলায় রায় দিয়েছে এবং অন্যান্য মামলার কার্যক্রম চলছে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সন্তানরা সরকারের কাছ থেকে এক পয়সাও পায়নি। তবু তারা শুধু উচ্চশিক্ষিতই নন, নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত।”

“তারা ব্যক্তিগত কোনো লাভের কথা না ভেবে দেশের জন্য কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে সাহায্য করছেন। অন্যদিকে তার [প্রধানমন্ত্রীর] মেয়ে বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার করেছেন।”

দুই পরিবারের তুলনা দিয়ে দীপু মনি বলেন, “কাজেই যারা তুলনা করে তারা তুলনা করে এমন কোনো পক্ষের জন্য যে পক্ষের দোষ ঢাকতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

“দুই পরিবারের একমাত্র মিল এই, তাদের মায়েরা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন,” বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজনীতিতে কারো সমালোচনা করেন না কেবল তাদের নীতি নিয়ে কথা বলেন।

“কিন্তু এরকম একটা কাগজ যখন এরকম বলে তখন আপনি না বলে কোথায় যাবেন?”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/পিডি/০০০২ ঘ.