ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অগাস্ট ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দীর্ঘ নয় বছর পর এ কিউ এম বদরুদ্দেজো চৌধুরীর সঙ্গে একই টেবিলে বসে ইফতার করলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রাজনীতিবিদদের সম্মানে বিএনপির ইফতার পার্টিতে মূল টেবিলে বি চৌধুরীর সঙ্গে বসে ইফতার করেন খালেদা।

এ ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো বিএনপি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। তবে তারা কেউ ইফতারে উপস্থিত ছিলেন না।

২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার এটিই প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। ইফতারের সময় পাশাপাশি বসা এই দুই নেতা কুশল বিনিময় করেন। বদরুদ্দোজার সঙ্গে তার ছেলে মাহী বি চৌধুরীও ছিলেন।

খালেদা-হাসিনা সর্বশেষ গতবছর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন।

মূল টেবিলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বসে ইফতার করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে চারদলীয় জোট সরকারের নতুন মিত্র অবরসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ চার দল ও আট দলের নেতারা ইফতারে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব।

ইফতারের আগে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন খালেদা।

চারদলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান, মহাসচিব শামীম আল মামুন, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

সমমনা দলের মধ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ন্যাপ-এর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মমিন, মুসলিম লীগের সভাপতি নুরুল হক মজুমদার, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, নেজামী ইসলামের মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, নেজামী ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি আবদুর রকীব, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি জি এ খান প্রমূখ নেতারা ইফতারের অংশ নেন।

ইরান ও কুয়েতের দুই কুটনীতিকও ইফতারে উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারে বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আর এ গনি, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আবুদল মইন খান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, সহসভাপতি এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ কেন্দ্রীয় নেতা ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা।

‘দেখা যাক কী হয়’

ইফতারের পর আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ইফতারের আমন্ত্রণে এসেছি। এখানে রাজনীতির বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। তবে দেশের অবস্থা ভালো নয়। মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই।”

সরকারবিরোধী আন্দোলনে চারদলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক মিনিট পরে কী হবে তা এখনই বলা যায় না। এখনো অনেক সময় বাকি আছে। দেখা যাক কী হয়।”

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, “ইফতারে এসে অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।”

জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমেদ বলেন, “জোটের বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান জানেন। তিনি এখন কোন্ অবস্থানে আছেন তা তো আপনারা জানেনই। আমি কিছু বলতে পারবো না।”

তিনি জানান, বিএনপির সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে বিরোধী দলের নেতার আমন্ত্রণে যোগ দিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/আরএ/পিডি/২০০৪ ঘ.