ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অগাস্ট ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সাবমেরিন কেবল মেরামতের কারণে ৯ অগাস্ট প্রথম প্রহরে বাংলাদেশে ইন্টারনেট যোগাযোগ বিঘিœত হতে পারে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-ফোর এর পূর্বাঞ্চলীয় রিপিটার প্রতিস্থাপন করা হবে। ৬ আগস্ট শুরু হয়ে এ কাজ চলবে ১২ অগাস্ট পর্যন্ত। ৯-১০ অগাস্ট বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়তে পারে।

১৬ দেশের সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়াম (জোট) সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-ফোর (সি-মি-ইউ-ফোর) এর পক্ষ থেকে মাসখানেক আগে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, কেবলের ১ দশমিক ১ সেগমেন্টের ১০৩ নম্বর রিপিটারটি বদলাতে হবে।

২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই কেবলের ১০৩ নম্বর রিপিটারটি রয়েছে মালয়েশিয়ার মালাক্কা ও সিঙ্গাপুরের টুয়াসের মাঝামাঝি এলাকার সাগরে। কেবলের ওই অংশটিকে বলা হয় ‘সেগমেন্ট ১ দশমিক ১’। মেরামতকারী জাহাজ ইতোমধ্যে ওই এলাকার দিকে রওনা হয়ে গেছে ।

কাজ শুরু হওয়ার পর ‘প্রাথমিক এক বা দুই ঘণ্টা’ ইন্টারনেট যোগাযোগ বিঘিœত হতে পারে উল্লেখ করে মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের বিষয়টি মাথায় রেখে রাত ২টার পর মেরামত শুরুর কথা হয়েছে, কারণ বাংলাদেশে ওই সময়টায় তুলনামূলকভাবে কম লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

“সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামকে আমরা অনুরোধ করেছি, যাতে তারা বাংলাদেশ সময় রাত ২টার পর কাজ শুরু করে। তারা এতে রাজি হয়েছে।”

প্রথম দু’এক ঘণ্টা পর তেমন সমস্যা হবে না- এ আশা প্রকাশ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ইতালির পালারমো ল্যান্ডিং স্টেশন হয়ে অন্য সেগমেন্টটি ততক্ষণে চালু হয়ে যাবে। এছাড়া চেন্নাই থেকে সিঙ্গাপুরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী আইটুআই কেবলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে ভারতী এয়ারটেল।

এর আগে জানানো হয়েছিল, সেগমেন্ট ১ দশমিক ১ এর মেরামত কাজ শুরু হবে ৬ অগাস্ট। কিন্তু মালয়েশিয়ার অনুরোধে তা পেছানো হয় বলে মনোয়ার হোসেন জানান।

তিনি বলেন, “মেরামতের সময়টায় ইন্টারনেট যোগাযোগ বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এমন ধারণা করার কারণ নেই।”

এই কর্মকর্তা ‘দু-এক’ ঘণ্টা ইন্টারনেট ‘বিঘিœত’ হতে পারে বললেও গত বছর একই সাবমেরিন কেবলের সংস্কার কাজের সময় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ইন্টারনেট যোগাযোগের বাইরে ছিল বাংলাদেশ।

টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকারও চলতি বছর ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতে নতুন একটি কেবলে যুক্ত হওয়ার জন্য দরপত্র ডাকে।

তবে এপর থেকেই ‘অজ্ঞাত’ কারণে সেই প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে জানান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন কর্মকর্তা।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এনআইএইচ/জেকে/১০১৫ ঘ.