ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, অগাস্ট ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আদালতে হট্টগোল ও পুলিশ নাজেহালের মামলার আসামি বিএনপি সমর্থক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, গ্রেপ্তার এড়াতে রোববার পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কার্যালয়েই অবস্থান করবেন তিনি।

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের কক্ষে বসে শুক্রবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আগামী রোববার পর্যন্ত এখানে থাকবো। আমি বুঝতে পারছি, বের হলেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, গ্রেপ্তারের পরও আমার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা হবে না।”

নিজেকে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, “আমি পুলিশকে আঘাত করিনি। বরং কিছু অপরিচিত লোক তাকে মারার চেষ্টা করছে দেখে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি।”

রোববার জামিন আবেদনের শুনানি হলে বিষয়টির ফয়সালা হবে বলে আশা করছেন তিনি।

সংবিধান নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে মঙ্গলবার ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে খালেদা জিয়ার নাম এলে আদালতে ব্যাপক হট্টগোল হয়। ওই ঘটনায় বিএনপিপন্থী ১৪ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

এই আইনজীবীদের পক্ষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে জামিন চাওয়া হলে একটি বেঞ্চ জামিন আবেদনের শুনানিতে বিব্রত বোধ করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাপিয়াসহ তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক এস এম জলিলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি মামলার তদন্তের কাজে হাইকোর্টের এনেক্স ভবনে গেলে বিরোধী দল সমর্থক আইনজীবীরা তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় রাতেই হত্যাচেষ্টা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৯ আইনজীবীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন জলিল।

ওই দুই মামলার আসামি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার এড়াতে বৃহস্পতিবার বিকালেই আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুবের কক্ষে ‘আশ্রয়’ নেন। ওই রাতে পুলিশ দীর্ঘ সময় খন্দকার মাহবুবের কার্যালয় ঘিরে রাখে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুক্রবারও তাকে ধরার জন্য আদালতের বাইরে ‘অপেক্ষায়’ থাকেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ আলী যখন ওই কার্যালয়ে বসে ইফতার করছিলেন, গোয়েন্দা পুলিশের দুই সদস্যকেও সাদা পোশাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বিএনপি সমর্থক আইনজীবী নেতারা সারাদনিই দফায় দফায় তার সঙ্গে দেখা করেন। বাসা থেকে পাঠানো খাবার ও পোশাকও পৌঁছে দেওয়া হয় মোহাম্মদ আলীর কাছে।

রাতে মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এই আইনজীবী সমিতির সদস্য। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ দুটি মামলা দিয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বার সভাপতির কক্ষকেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে হয়েছে আমার।”

‘পরিস্থিতি বিবেচনা করে’ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকও তাকে একই পরামর্শ দিয়েছেন বলে মোহাম্মদ আলী জানান।

সভাপতির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমি এখানে সাদা পোশাকে বিভিন্ন বাহিনীর লোকজনকে দেখতে পাচ্ছি। তাই বের হতে পারছি না।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের জামিনের জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা না হলে রোববারের আগে জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার আশা নাই।”

এ কারণে রোববার পর্যন্ত খন্দকার মাহবুবের কক্ষেই অবস্থান করবেন বলে মোহাম্মদ আলী জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/জেকে/০২৪৫ ঘ.