ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

আমিনূর রহমান রাসেল
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক

ঢাকা, অগাস্ট ১১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের কথা শুনতে একটি ‘সেল’ খুলেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রথম দিন বৃহস্পতিবার এই সেলে রাখা বাক্সে জমা পড়া একটি অভিযোগে গ্যাস সংকটের কথা জানিয়েছেন একজন গ্রাহক।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি বলছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেলের সদস্যরা প্রথমে তা যাচাই করে দেখবেন। এরপর সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।”

“ব্যাখ্যা সন্তোষজনক মনে হলে অভিযোগকারীকে বাস্তবতা বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হবে। তবে ব্যাখ্যা সন্তেুাষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে সুপারিশ করা হবে,” যোগ করেন তিনি।

সন্তেুাষজনক ব্যাখা প্রসঙ্গে বিইআরসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, “দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ কম। কেউ যদি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ করে, তা হলে তার সমাধান তো করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে গ্রাহকদেরও বিষয়টি বুঝতে হবে।”

রোজা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকে বিদ্যুতের লোড-শেডিংয়ের মাত্রা বাড়ায় মুন্সীগঞ্জ, গাইবান্ধা, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় অসন্তোষ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহেও বিঘœ ঘটে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ অগাস্ট বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ‘পরিকল্পনা উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিইআরসি এই ‘অভিযোগ সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৭ হাজার মেগাওয়াট। আর উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার ৫২ মেগাওয়াট। তাই এখনো ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি। এ জন্য সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে।”

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সারাদেশে ২৫০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এই হিসাবে ঘাটতি ৫০০ কোটি ঘনফুট।

এসব বিষয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে সমস্যা পাহাড় সমান। এতো সমস্যা একদিনে সমাধান করা যাবে না।

“তবে সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন, সঞ্চালন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো দায়িত্বপালন করছে কি না- তা তদারকি করবে বিইআরসি।”

গ্রাহকদের অভিযোগ কতদিন পর নিষ্পত্তি করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব আমরা সমাধান করবো। চেষ্টার কোনো ত্র”টি থাকবে না।”

বিইআরসির বাক্সে জমা পড়া প্রথম অভিযোগে ঢাকার মানিকনগরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাসার পাইপলাইনে গ্যাস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ আবু ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা রোববার তার অভিযোগ যাচাই করে দেখবো। সত্যতা পেলে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস কৃর্তপক্ষের কাছে ব্যাখা চাওয়া হবে।”

তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ জানাতে চাইলে নাম, ঠিকানা, টেলিফোন বা মোবাইল নম্বরসহ এক পৃষ্ঠায় সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ সেলে রাখা বাক্সে জমা দিতে হবে। ডাকযোগেও অভিযোগ পাঠানো যাবে।

অভিযোগ পাঠানোর ঠিকানা- অভিযোগ সেল, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, টিসিবি ভবন (৪র্থ তলা), ১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরআর/জেকে/২০১৩ ঘ.