ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অগাস্ট ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- একটি প্রতিবেদন নিয়ে ঢাকার সমালোচনায় পড়ার পর বাংলাদেশ নিয়ে আরো দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট। দুই প্রতিবেদনেই ঘুরেফিরে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়েও আবার প্রশ্ন তুলেছে তারা।

প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের ওয়েবসাইটে শুক্রবার প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ হয়। ‘পয়জনাস পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ’ ও ‘ইন দ্য নেম অফ দ্য ফাদার’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন হলেও ঘুরেফিরে একই কথা বলা হয়েছে উভয়টিতেই। দুই প্রতিবেদনই শনিবার ইকোনমিস্টের ছাপানো সংস্করণে প্রকাশ হচ্ছে।

গত ৩০ জুলাই ইকোনমিস্টে প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ: এম্ব্রেস্যাবল ইউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূরাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে ভারত, যার প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সরকার।

‘পয়জনাস পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ: রিভারশন টু টাইপ’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল হলেও রাজনীতি চলছে উল্টো দিকে। যুদ্ধাপরাধের বিচার, সংবিধান সংশোধন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়গুলো তুলে ধরে কার্যত শেখ হাসিনা সরকারকেই এ জন্য দায়ী করা হয়েছে।

২০০৮ সালে নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং তাকে নিরঙ্কুশ জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতারোহণকে মেনে নিয়ে ইকোনমিস্ট একইসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, নিরঙ্কুশ জনসমর্থনকে পুঁজি করে হাসিনা সরকার দলীয় স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে বলে মনে করছে ইকোনমিস্ট, যদিও এ বিষয়ে কোনো যুক্তি তুলে ধরা হয়নি। শুধু এক ব্রিটিশ আইনজীবীকে বাংলাদেশে ঢুকতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়েছে।

টবি ক্যাডম্যান নামে ওই আইনজীবী গত ৬ অগাস্ট একটি সেমিনারে উপলক্ষে বাংলাদেশে আসার কথা বললেও যুদ্ধারপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামী নেতারা তাকে আইনজীবী হিসেবে পেতে ট্রাইবুনালে আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন। টবি ক্যাডম্যান এর আগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কার্যক্রম দেখে গেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইকোনমিস্ট। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসের মতো নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন বলে মত প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট। তাদের ধারণা, এতে বিএনপির আগামী নির্বাচনে না যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হলো।

নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা শেখ হাসিনা বলে এলেও ইকোনমিস্ট আশঙ্কা করছে, জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টায় বিরোধী দলের ওপর খড়গহস্ত হতে পারেন।

এ আশঙ্কা প্রকাশের ক্ষেত্রে একই দিনে খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা ও তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, তার আগে আরাফাত রহমান কোকোকে সাজা দিয়ে আদালতের রায় দেওয়া, তারও আগে খালেদার সেনানিবাসের বাড়ি খালি করা, খালেদার উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার- এ সব ঘটনাকে এক সূত্রে গেঁথেছে ইকোনমিস্ট।

সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, তার স্বাধীনতার ঘোষণাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাকেও ভালো চোখে দেখা হয়নি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে। তারা বলছে, এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানকেই মহান করে তুলছেন, যা নিয়ে দেশ বিতর্ক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে একদিন আগে বঙ্গবন্ধুর ছবিখচিত নতুন নোট চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেছে তারা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আগামী মাসের ঢাকা সফর নিয়ে ইকোনমিস্ট লিখেছে, দুই দেশের বন্ধন মজবুত করতে বেশ কয়েকটি চুক্তি হতে পারে এ সফরে। যদি ভারত ও বিশ্বে বাংলাদেশের অন্য বন্ধুরা দেখাতে পারে যে তাদের বন্ধুত্ব শুধু একটি দলের সঙ্গে নয়, একটি দেশের সঙ্গে, তাহলেই ভালো হয়।

পত্রিকাটির ৩০ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতের জন্য একটি ‘নিরাপদ করিডর’ করে দিতে ট্রানজিট চুক্তি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর প্রতিবাদ পাঠায়।

৪ অগাস্ট পাঠানো ১৩৬২ শব্দের ওটি প্রতিবাদলিপি পরদিন ইকোনমিস্টের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশও করা হয়। মুদ্রিত সংস্করণের জন্য এরপর আবার প্রতিবাদ পাঠানো হলে শনিবার প্রকাশিতব্য সংখ্যায় তা প্রকাশের কথা জানানো হয়। তবে শুক্রবার ওয়েবসাইট সংস্করণে দেখা যায়, প্রতিবাদলিপি প্রকাশিতব্য সংখ্যার ‘লেটার টু দ্য এডিটর’ বা চিঠিপত্র বিভাগে ছাপানো হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমআই/২০৪০ ঘ.