ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, অগাস্ট ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে দেরি করায় তৎকালীন অধ্যক্ষকে দায়ী করেছে সরকারি তদন্ত কমিটি।

ধর্ষণের ওই ঘটনার সুযোগ নিয়ে নামী স্কুলটিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অস্থিরতার তৎপরতারও প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল।

অভিযুক্ত ধর্ষক শিক্ষক পরিমল জয়ধরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশও করেছে কমিটি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসএম ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি রোববার শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এই প্রতিবেদন দেয়।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের বসুন্ধরা শাখার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৪ জুলাই তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করে। পরে ওই কমিটির সদস্য সংখ্যা করা হয় পাঁচজন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২৮ মে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার পাশে একটি বাড়িতে ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন পরিমল। পরিমল তার মোবাইল ফোনে মেয়েটির ছবিও তুলে রাখেন।

‘অধ্যক্ষ দেরি করায় বেশি জটিলতা’

প্রতিবেদন পাওয়ার পর রোববার মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “পরিমলের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা নিঃসন্দেহে পাওয়া গেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।”

মন্ত্রী জানান, তদন্ত দল শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীসহ ১৮ জন সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলে ২৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন দিয়েছে। মূল বিষয়, পর্যালোচনা ও সুপারিশ- এ তিন অংশে ভাগ করে প্রতিবেদনটি দেওয়া হয়েছে।

নাহিদ বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তৎকালীন অধ্যক্ষ হোসনে আরা ওই ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করায় অনেক বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছিলো।”

তদন্ত কমিটি আর কোনো পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কি না জানতে চাইলে নাহিদ বলেন, “এখনো পুরো প্রতিবেদন পড়ে দেখিনি। প্রতিবেদন পড়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

বর্তমানে ভিকারুননিসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

‘কিছু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিমলের গ্রেপ্তারের দাবিতে অস্থিরতার সময় কিছু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা নিয়ে কিছু ব্যক্তি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তারাই উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।

ধর্ষণের ঘটনার এক মাস পর (২৮ জুন) পরিমলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে স্কুলের বসুন্ধরা শাখা প্রধান লুৎফর রহমানের কাছে একটি আবেদন জমা দেয় ওই শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্রীরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ৫ জুলাই ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে বাড্ডা থানায় পরিমল জয়ধর, অধ্যক্ষ হোসনে আরা এবং লুৎফর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।

ওই মামলায় ৭ জুলাই ভোররাতে কেরানীগঞ্জের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পরিমলকে। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ার লাটেংগা গ্রামের বাসিন্দা। বাবার নাম ক্ষিতিশ জয়ধর।

এক পর্যায়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পরিমলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে শুরু করলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের ছুটিতে যান অধ্যক্ষ হোসনে আরা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ভিকারুননিসার দায়িত্ব নেন মঞ্জুআরা বেগম।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ১৪ অগাস্ট পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও বাকি দুই আসামির বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/এসআই/আরএ/জেকে/২১২৮ ঘ.